
ফুটবল বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন কে হবে, তা আগে থেকে অনুমান করা অত্যন্ত দুলর্ভ এক কাজ। তবে এই কঠিন সমীকরণকেই যেন ডালভাত বানিয়ে ফেলেছে বিখ্যাত ভিডিও গেম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘ইএ স্পোর্টস’ (EA Sports)। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে স্পেনের ট্রফি জয়ের মধ্য দিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের নাম নিখুঁতভাবে আগাম জানিয়ে দেওয়ার রেকর্ড গড়ল প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হওয়ার ঠিক দুই দিন আগে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিল ইএ স্পোর্টস। টুর্নামেন্টের পর্দা নামার পর দেখা গেল, তাদের সেই আগাম বার্তা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে রোববার (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নেয় স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে স্পেনের হয়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন ফেরান তোরেস।
এর আগে ২০১০ সালে যখন স্পেন প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখনও ইএ স্পোর্টস তাদের নিয়ে সঠিক পূর্বাভাস দিয়েছিল। এরপর যথাক্রমে ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের কথা টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই জানিয়েছিল তারা। এবার ২০২৬ সালে স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে টানা পাঁচবার তাদের সিমুলেশন শতভাগ সফল হলো।
ইএ স্পোর্টসের এই নিখুঁত পূর্বাভাস কেবল কোনো সাধারণ অনুমান বা ভাগ্য পরীক্ষা নয়। এর পেছনে রয়েছে নিখাদ ডেটা ও বিজ্ঞান। প্রতিষ্ঠানের ডেভলপাররা ফুটবলারদের সাম্প্রতিক ফর্ম, দলগত শক্তি, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ, রণকৌশল এবং অতীত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে একটি বিশেষ সিমুলেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পুরো টুর্নামেন্টটি ভার্চুয়ালি পরিচালনা করেন। আর সেই ডিজিটাল বিশ্লেষণ থেকেই উঠে আসে সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম।
এবারের আসরে স্পেন ও ফ্রান্সকে শুরু থেকেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার ভাবা হলেও টুর্নামেন্টে চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দের মতো ছোট দলও। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছিল আফ্রিকার এই দেশটি।
তবে শুরুর ধাক্কা সামলে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ‘লা রোজা’রা। গোটা টুর্নামেন্টে তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে। ফাইনালে ওঠার পথে বেলজিয়াম, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের মতো বিশ্বসেরা দলগুলোকে স্তব্ধ করে দেয় স্প্যানিশরা।
স্পেনের এই ঐতিহাসিক ট্রফি জয়ে বড় অবদান রেখেছেন দুই তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়িয়েছেন এই দুই তারকা। এর মধ্যে টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার লুফে নিয়েছেন ডিফেন্ডার কুবারসি।
অন্যদিকে, পুরো টুর্নামেন্টে অনবদ্য পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ জিতেছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি। এর আগে ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর এবং ইউরো কাপের সেরা খেলোয়াড়ের ট্রফিও নিজের শোকেসে তুলেছিলেন এই তারকা।