রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজিরবিহীন দলীয়করণ এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিএনপি সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাংক্ষাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। সরকারের এই অপকৌশল অব্যাহত থাকলে তাদের পরিণতিও ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার মতো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
রোববার সন্ধ্যায় (২৬ জুলাই) ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে এনসিপির জেলা শাখা আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ’ পদযাত্রা পরবর্তী এক বিরাট সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, “সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ ১২টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় পদধারীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অতি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব পদে বিএনপির এক পদধারীকে বসিয়ে পুরো কমিশনকে কুক্ষিগত করার চক্রান্ত চলছে। দল বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে, যা জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, “ভারতের হেডকোয়ার্টারে বসে শেখ হাসিনা যতই হুঙ্কার দেন না কেন, দেশে ফিরে তাকে ১৪শ মানুষকে হত্যার দায়ে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতেই হবে।”
বিএনপি সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তুষার আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও ক্ষমতা হাতে পেয়ে জনগণের সাথে বেইমানি করা হয়েছে। এমনকি ঝিনাইদহে প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজটি শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ার কথা থাকলেও আইনমন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার করে তা একটি উপজেলায় নিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের এই সমন্বয়হীনতা ও হামলা-মামলার রাজনীতি শেষ পর্যন্ত তাদের বঙ্গোপসাগরে ফেলবে।”
জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “দেশজুড়ে আজ খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই ও টেন্ডারবাজি মাত্রা ছাড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ পলায়ন করলেও সেই বিতর্কিত জায়গা দখল করেছে যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা আজ চাঁদাবাজির নতুন রেকর্ড গড়ছে।”
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহিদ প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামের বাবা আবু বকর সিদ্দিক, মা হাফিজা খাতুন এবং শহিদ সাব্বির হোসেনের বাবা আমোদ আলীসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এর আগে দুপুর ২টায় ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ‘জুলাই পদযাত্রা ও শহিদদের স্মরণে’ আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য পদযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পায়রা চত্বরে এসে শেষ হয়। সকালে এনসিপি নেতারা শহিদদের কবর জিয়ারত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা ও সমবেদনা বিনিময় করেন।