পঞ্চগড়ের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও যুগ্ম সচিব ডা. সাবিনা ইয়াসমিনকে বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিতর্কিত ভূমিকা পালনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তাঁর চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।বিতর্কিত ও ভোটারবিহীন নির্বাচনে সহযোগিতার অভিযোগে প্রশাসনের অন্যান্য বিতর্কিত কর্মকর্তাদের সাথে তাঁকেও বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়।

বিস্তারিত জানা যায়, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের ৩২ জন কর্মকর্তাকে একযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের বিতর্কিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন এসব কর্মকর্তা। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। চাকরি জীবনে তারা সর্বশেষ পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হন এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কর্মহীন ওএসডি অবস্থায় থাকা এসব কর্মকর্তার বিষয়ে সম্প্রতি একটি সারসংক্ষেপ (সামারি) তৈরি করা হয়েছিল। সেই সারসংক্ষেপের ভিত্তিতেই আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাতের ভোট ও একতরফা নির্বাচনের সার্বিক দায় মূলত রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসকদের ওপর এসে পড়ে। পটপরিবর্তনের পরপরই তৎকালীন ডিসিদের ওএসডি করা হয়। দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করা এসব চৌকস কর্মকর্তা ওএসডি হওয়ার পর থেকে কার্যত কর্মহীন অবস্থায় ছিলেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এর আগেও চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া ২২ জন সাবেক ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল এবং আরও বেশ কয়েকজন ওএসডি হিসেবে ছিলেন।