তীব্র দাবদাহের মধ্যে নরসিংদীর মনোহরদীতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অসহনীয় গরমের পাশাপাশি বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নির্ঘুম রাত কাটছে উপজেলার বাসিন্দাদের।
চলমান এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রাতে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। একই সঙ্গে তীব্র গরমে শ্রেণিকক্ষও হয়ে উঠছে অস্বস্তিকর, ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ও পাঠগ্রহণে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাট অন্ধকারে ডুবে থাকছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক বেচাকেনা। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। নিম্ন আয়ের মানুষও নিত্যদিনের কাজে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকায় তুলনামূলকভাবে কিছুটা বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যানসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানপাট অন্ধকারে ডুবে থাকে। আবার চার্জের অভাবে অটোরিকশা কম চলায় যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।”
এদিকে অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ সেবা না পেলেও মাস শেষে নিয়মিত অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (মনোহরদী জোনাল অফিস)-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী ফযিলত রাব্বি মু’মিনাহ জানান, বর্তমানে মনোহরদীতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪৫ মেগাওয়াট। তবে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৭ মেগাওয়াট। প্রতিদিন প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিদ্যুতের বরাদ্দ বৃদ্ধি ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।