রুহিয়া উপজেলার ৪নং ঢোলার হাট ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ‘শুক নদী’। নদীর বুকে সমন্বিত হাঁস ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন ভ‚মিহীন কৃষক রবিউল ইসলাম (৪৮)। রবিউল উত্তর বোয়ালিয়া গ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রবিউল ইসলাম শুক নদীর কোল ঘেঁষে ২ বিঘা জমি বর্গা নিয়েছেন। সেখানে তিনি ধুন্দুল, বাঁধাকপি, ফুলকপি, করলা ও কলাসহ বিভিন্ন ধরণের সবজির চাষ করেছেন। পাশাপাশি নদীর তীরেই গড়ে তুলেছেন একটি হাঁসের খামার। জানা গেছে, নিজস্ব সঞ্চয় ও কিছু ধারদেনা মিলিয়ে এই উদ্যোগে রবিউলের সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। তাঁর আশা, বছর শেষে এই হাঁসের খামার ও সবজি বাগান থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হবে। নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে রবিউল ইসলাম বলেন, “নদী শুকিয়ে গেলে অনেকেই হতাশ হন, কিন্তু আমি একে একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছি। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০টি হাঁসের বাচ্চা নিয়ে আমার এই যাত্রা শুরু করি। নদীর স্বাভাবিক পানি ব্যবহার করায় হাঁস পালনের খরচ যেমন কম হয়, তেমনি পলিযুক্ত উর্বর বালুমাটিতে সবজির ফলনও মেলে চমৎকার।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পেলেও, ভবিষ্যতে নদীর ওপর ভাসমান শেড তৈরি করে বৃহৎ পরিসরে হাঁস পালনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, শুক নদীকে কাজে লাগিয়ে রবিউল যেভাবে নিজের ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করছেন, তা আশপাশের অনেক বেকার যুবকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। নদীর বুকে গড়ে তোলা এই সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ কেবল তাঁর নিজের সংসারেই সচ্ছলতা আনবে না, বরং স্থানীয় বাজারে শাকসবজির চাহিদাও অনেকাংশে মেটাবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের টেকসই পরামর্শ পেলে রবিউল ইসলামের এই উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাসিরুল আলম বলেন, “বর্তমানে অনেক বেকার যুবককে চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে ঘুরতে দেখা যায়। আমরা তাঁদের চাকরির পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে রবিউল ইসলাম একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারেন। তাছাড়া আমাদের মাননীয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিবও এ বিষয়ে যুবকদের স্বাবলম্বী হতে নিরন্তর উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন।”