সাভারের আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের নাল্লাপোল্লা গ্রামে চলতি বছরে অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম থাকায় আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠজুড়ে সবুজ আখের সমারোহে খুশি কৃষকরা। ভালো ফলনের কারণে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে লাভের আশা করছেন তারা।
স্থানীয় কৃষক কহিনুর জানান, আমি জাতের আখ বুনেছি,সময়মতো বৃষ্টিপাত, সঠিক পরিচর্যা এবং রোগবালাই কম থাকায় আখের গাছ সুস্থভাবে বেড়ে উঠেছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। অনেক কৃষক জানান, প্রতি বিঘায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।এখন বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।
আখ খেত কিনতে পাইকার জানান, আমরা আখ পরিপক্ব হলে বিঘা হিসেবে কখনও পিচ হিসাবে আখ কিনি।তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকের ফলন ভালো হয়েছে, চাহিদাও রয়েছে পাইকারী ভাবে কিনে আখ ভালো দামে বিক্রি করা যাবে।
এলাকার বেকার যুবকরা জানান,পড়াশুনা শেষ করে চাকরির আশায় থাকলে পরিবার সামাল দিতে কষ্ট হয়। তাই গ্রামের জমি কড নিয়ে আখ চাষ করেছি ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে আশা করি ৩ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো।ফলনও ভালো হয়েছে।
স্থানীয় শিমুলিয়া ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল আলিম বলেন,আমার ওয়ার্ডের কৃষকরা আখ চাষ করেছে তাদের ফলন অনেক ভালো হয়েছে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায়। সকল কৃষকের মুখে হাসি এবার আখ বিক্রি করে বেশ লাভবান হতে পারবে।
তবে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আখ চাষ শুরু হওয়ার পর থেকে কৃষি ঋণ কর্মকর্তা কিংবা কৃষি বিভাগের কোনো মাঠকর্মী তাদের খোঁজখবর নিতে বা পরামর্শ দিতে মাঠে আসেননি। এতে তারা আধুনিক চাষাবাদ ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল-মামুন জানান, সাভার উপজেলায় মোট ১০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে এর মধ্যে শিমুলিয়া ইউনিয়নেই ৯ হেক্টর জমি। সরকারি ভাবে আখ উৎপাদনের জন্য সার ও কীটনাশকের কোনো বিশেষ বরাদ্দ নেই। তিনি কৃষকের অভিযোগ নাখোছ করে দিয়ে আরও বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের কৃষি আবাদ সর্বদা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।