একসময় শুকনো মৌসুমে পানির অভাব আর বর্ষায় জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়তেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কৃষকরা। তবে খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রমের ফলে এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। প্রাণ ফিরে পেয়েছে ফসলি মাঠ কৃষকদের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
জানা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তোলা। বাবার স্বপ্নকে ধারণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম, নসরতপুর ও আদমদীঘি সদর ইউনিয়নের জিনইর বড়খাড়ি থেকে দত্তবাড়িয়া শাওইল গ্রাম অভিমুখী খাল পুনঃখনন কাজ গত ১০ মে শুরু হয়।
সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দেশে খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খাল খনন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এর ফলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয় এবং দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। বাবার স্বপ্নকে ধারণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম, নসরতপুর ও আদমদীঘি সদর ইউনিয়নের জিনইর বড়খাড়ি থেকে দত্তবাড়িয়া শাওইল গ্রাম অভিমুখী খাল পুনঃখনন কাজ গত ১০ মে শুরু হয়।
এই সংষ্কার কাজে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন হতদরিদ্র মানুষরা। প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় বদলে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠের চিত্র। আর কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি এবং প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে তার প্রাণচাঞ্চল্য।
স্থানীয় কৃষক বেলাল ও রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় খালটি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছিল। খাল পুনঃসংস্কারের ফলে সেচব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে চাষের খরচ কমবে এবং আগে অনাবাদি থাকা জমিতেও চাষ করা সম্ভব হবে। এছাড়া খালটি জলাধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমাতেও ভূমিকা রাখবে। এ উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান, দীর্ঘদিনের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। খালটি পুনঃখননের ফলে সেই সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন খালের আশপাশের জমিগুলোতে সেচ সুবিধা সহজলভ্য হবে। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো। এখন খালটি পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ তিনি আরও বলেন, খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ করা হবে যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বগুড়াসহ ৫৪টি জেলায় একযোগে প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে।
এতে জলাবদ্ধতা দূর হবে সেচ সুবিধা বাড়বে কৃষকরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি এই আসনে আরও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।