ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের ভোমরাডাঙ্গা বাজারের গ্রাম্য চিকিৎসক মো. খোকন হোসেনের বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবনের গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা পেশার মতো সংবেদনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত খোকন ডাক্তার ভোমরাডাঙ্গা গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি ছবিতে তাকে সরাসরি ইয়াবা সেবন করতে দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ছবিতে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় যাকে দেখা যাচ্ছে, তিনি খোকন ডাক্তার নিজেই। একজন চিকিৎসক যেখানে সমাজকে সুস্থ রাখার বার্তা দেবেন, সেখানে তিনি নিজেই যদি ইয়াবা সেবন করেন, তবে এলাকার উঠতি বয়সের তরুণ ও যুবসমাজ মাদকের মারাত্মক অভিশাপের দিকে ঝুঁকে পড়বে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে অভিযুক্ত খোকন ডাক্তারের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি মাদক সেবনের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, “আমি মাঝে মধ্যে খাই ভাই। তবে ঘটনাটি ভিন্ন। আমি এক ব্যক্তির কাছে ৭ লাখ টাকা পাই, সে আমার এক সময়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যবসায়িক পার্টনার ছিল। এখন সেই পাওনা টাকা যাতে না দেওয়া লাগে, সে জন্যই ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় উল্লেখ করে এলাকার সচেতন মহল অবিলম্বে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার এবং কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) আইনগত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
স্থানীয় সচেতন নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে জানান, যাঁরা মাদক বিক্রি করেন কিংবা সেবন করেন, তাঁরা কোনো দলের বা সমাজের প্রতিনিধি হতে পারেন না। তাঁদের একমাত্র পরিচয়—তারা মাদকসেবী ও মাদক কারবারি। সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক খোকন ডাক্তারের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।