দেশি মাছ রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি
বিশেষ প্রতিবেদন: দেশজুড়ে নদী, খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে ব্যাটারি ও ইনভার্টার লাগিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাছ শিকারের মহোৎসব চলছে। দ্রুত লাভবান হওয়ার লোভে একশ্রেণীর অসাধু শিকারি এই ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নিয়েছে। এতে শুধু বড় মাছই কাবু হচ্ছে না, অবলীলায় ধ্বংস হচ্ছে কোটি কোটি রেনু-পোনা, মাছের ডিম এবং বিলুপ্তপ্রায় জলজ প্রজাতি। ফলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে আমাদের জলজ বাস্তুতন্ত্র ও দেশীয় মাছের ভাণ্ডার।
ধ্বংসের মুখে দেশি মাছ ও প্রজননব্যবস্থা
স্থানীয়দের তথ্য ও পরিবেশবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই নিষিদ্ধ উপায়ে উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহিত করায় জলজ পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে:
পোনা ও ডিমের বিনাশ: উচ্চ ভোল্টেজের শকে পানির নির্দিষ্ট সীমানার ছোট-বড় সব মাছ অবশ হয়ে ভেসে ওঠে। এতে প্রজননক্ষম মাছ ও ক্ষুদ্র রেনু-পোনা এক লহমায় মারা যায়।
প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস: শকের আঘাত পেয়েও যেসব মাছ কোনোমতে বেঁচে থাকে, সেগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং প্রজনন ক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়।
জলজ বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি: বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে কুচিয়া, ব্যাঙ, শামুক, জোঁক এবং পানির উপকারী অণুজীব ধ্বংস হচ্ছে, যা জলাশয়ের স্বাভাবিক খাদ্যশৃঙ্খল (Food Chain) নষ্ট করে দিচ্ছে।
আইন ও প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা
‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০’ অনুযায়ী যেকোনো জলাশয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ বা ক্ষতিকর ডিভাইস ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল, জরিমানা এবং মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে অনেক অঞ্চলেই রাতের আঁধারে বা লোকচক্ষুর আড়ালে এ ধরনের অপরাধ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জরুরি প্রশাসনিক কঠোরতার দাবি
দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষা ও জলাশয়গুলোকে মৎস্যশূন্য হওয়া থেকে বাঁচাতে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের নিয়মিত অভিযানের কোনো বিকল্প নেই। সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, অবৈধ শক-যন্ত্র ব্যবহারকারীদের বরদাস্ত না করে তাৎক্ষণিকভাবে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ বা উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) পরিচালনা করে এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।