লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘ ৫০ দিন ধরে ঝিনাইদহে থমকে আছে এক আফগান নাগরিকের মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া। স্বজনের লাশ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আকুল আকুতি নিয়ে ঝিনাইদহের প্রশাসনিক কার্যালয় ও থানার দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন আফগানিস্তানের নাগরিক ইমাল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন জমা দেওয়া সত্ত্বেও কূটনৈতিক এবং স্থানীয় প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে এই মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দীর্ঘ অপেক্ষা
জানা যায়, ঝিনাইদহে নিভে যাওয়া আফগান নাগরিকের জীবন প্রদীপের পর তাঁর লাশ হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাংলাদেশে আসেন তাঁর ভাই ইমাল। তবে মরদেহ বুঝে পাওয়া এবং তা নিজ দেশে স্বসম্মানে ফিরিয়ে নেওয়ার পথ সহজ হয়নি। গত ৫০ দিন ধরে তিনি ঝিনাইদহের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধর্না দিচ্ছেন।
প্রশাসনিক জটিলতার প্রধান দিকগুলো:
মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সমন্বয়হীনতা: পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র (NOC) এবং ঢাকা স্থিত আফগান দূতাবাসের চূড়ান্ত ছাড়পত্রের মাঝে সমন্বয়ের অভাব।
স্থানীয় আইনি থানা ছাড়পত্র: পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন ও আদালতের ছাড়পত্র হস্তান্তরে ধীরগতি।
ভাষাগত ও যোগাযোগের বাধা: ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতার কারণে অচেনা শহরে ভিনদেশি স্বজনহারা ইমালের চরম অসহায়ত্ব।
মানবিক সংকট ও স্থানীয় ক্ষোভ
প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতার এই দীর্ঘসূত্রতায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঝিনাইদহের স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকারকর্মীরা। তাঁদের মতে, আইনি প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে ৫০ দিন ধরে একটি মৃতদেহ আটকে রাখা মানবিকতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই দীর্ঘসূত্রতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
দ্রুত নিষ্পত্তির আকুল আবেদন
ইমালের একটাই আকুতি—সব আইনি বাধা দূর করে যেন দ্রুত ভাইয়ের লাশ তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়, যাতে তিনি দেশে ফিরে পারিবারিক আবহ্রে দাফন-কাফনের কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। জেলা প্রশাসন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের আশু হস্তক্ষেপই পারে এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে।