ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামে টিকটকের সূত্রে গড়ে ওঠা প্রেমের জেরে মোঃ আশানুর ইসলাম (১৯) নামের এক তরুণকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ঘরে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীর পরিবার তাকে জোরপূর্বক বিয়ের জন্য এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার আশ্রয় নেয় বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী তরুণকে তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করেছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, বললামপুর গ্রামের মোঃ আশাদুলের ছেলে মোঃ আশানুর ইসলাম (১৯)-এর সাথে পাশের গ্রামের মোছাঃ সুমাইয়া খাতুন (১৭)-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘টিকটক’-এর মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে স্থানীয় ঘোষনগর বাজার মোড়ে ফুচকা দিতে যান আশানুর। ফুচকা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সুমাইয়ার পরিবারের কয়েকজন লোক হঠাৎ তার পথ গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে বলপূর্বক তুলে নিয়ে সুমাইয়াদের বাড়িতে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
​সারারাত বর্বরতা ও স্বজনদের ওপর হামলা
অভিযোগ উঠেছে, পুরো রাত আশানুরকে সেই ঘরে আটকে রেখে ব্যাপকভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। ভোরে ছেলের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার খবর পেয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিতে এলে তাদের ওপরেও হামলা ও মারধর চালানো হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।

ঘটনার রাতে আনুমানিক রাত ২টা ৩০ মিনিটে বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আসে। আজ ২৬ আগস্ট (বুধবার) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সরেজমিনে সুমাইয়াদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আশানুর তখনও আহত অবস্থায় ঘরের ভেতরে তালাবদ্ধ। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিকে)অবহিত করেন সাংবাদিকরা। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আশানুরকে তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে—মেয়ে সুমাইয়া খাতুনের বয়স আইন অনুযায়ী (১৭ বছর) বিয়ের উপযুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও তার অভিভাবকরা তরুণকে জিম্মি করে জোরপূর্বক বাল্যবিয়ে দেওয়ার পাঁচতারা করছিল।
​এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই তরুণকে উদ্ধার করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।