ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর বিএডিসি ফার্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ও জমাট বাঁধা সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থায়নে চলমান এ নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগও করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়মের কারণে প্রায় এক মাস ধরে সড়কটির নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। শনিবার (২৯ আগস্ট) হঠাৎ করে ছুটির দিনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবারও কাজ শুরু করে। এ সময় নিম্নমানের ও জমাট বাঁধা সিমেন্টের সঙ্গে অল্প পরিমাণ নতুন সিমেন্ট মিশিয়ে সড়কে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য রাখা সিমেন্টের কিছু অংশ জমাট বেঁধে রয়েছে। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রাজু আহমেদকে জমাট বাঁধা সিমেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে বিএডিসি ফার্মের কর্মকর্তা মামুন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি দেখছি।”

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না। তাদের দাবি, সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সরেজমিন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলে সড়কটি নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কাজের মান নিশ্চিত করে সঠিক উপকরণ ব্যবহার এবং প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।