সারা বাংলাদেশে ভুয়া সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য পরিচয় ব্যবহার করে ‘হানিট্রাপ’ কৌশলে এক ব্যক্তিকে ফাঁসিয়ে আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে একটি চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের জিম্মায় থাকা ভুক্তভোগী ব্যক্তিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হরিণটানা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ভুয়া পত্রিকার পরিচয়পত্র ও মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি পরিকল্পিত কৌশলের মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে হানিট্রাপে ফেলে নির্দিষ্ট একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর স্ত্রী খুলনা সদর থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। একপর্যায়ে হরিণটানা থানা এলাকার একটি স্থানে অভিযান চালিয়ে জিম্মি অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চক্রটির চার সদস্যকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভুয়া পত্রিকার কার্ড এবং মানবাধিকার সংগঠনের পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তারা সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো বা চাপ প্রয়োগ করত কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর স্ত্রীর অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভুয়া সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের এই অভিযানে কথিত সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার সংগঠনের পরিচয়কে অপব্যবহার করে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।