ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ৯ নম্বর যাদবপুর ইউনিয়নের হুদাদুর্গাপুর-পাথরা গ্রামের কৃতি সন্তান মো. সাজ্জাদ হোসেন ফিফার সহকারী রেফারি হিসেবে মনোনীত হওয়ায় এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার। তিনি পাথরা ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক মরহুম মোশারফ হোসেনের তৃতীয় পুত্র। সাজ্জাদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নিয়মিত রেফারি হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ের ফুটবল ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন। এবার ফিফার সহকারী রেফারি হিসেবে মনোনীত হওয়ায় তার এই অর্জনে গর্বিত মহেশপুরবাসী।সাজ্জাদ হোসেনের এমন সাফল্যে নিজ এলাকা পাথরাসহ পুরো মহেশপুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করছেন, তার এই অর্জন শুধু পরিবারের নয়, গোটা মহেশপুরের জন্যও গর্বের বিষয়। ফিফার মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গনে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ায় তার মাধ্যমে দেশের ফুটবলের ভাবমূর্তিও আরও উজ্জ্বল হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।মহেশপুরের আরেকজন রেফারি ও সস্তা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত গেম টিচার এবং এলাকার পরিচিত ক্রীড়াপ্রেমী ইসমাইল হোসেন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমরা সাজ্জাদকে খেলাধুলার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ও নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে দেখে আসছি। খেলাধুলার প্রতি তার ভালোবাসা ও নিষ্ঠা ছিল চোখে পড়ার মতো। আমরা সবসময় তাকে সাহস ও উৎসাহ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছি। ফিফার সহকারী রেফারি হিসেবে মনোনীত হওয়া তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, মেধা ও নিষ্ঠারই স্বীকৃতি। আমি বিশ্বাস করি, সে তার এই দায়িত্ব আরও সুন্দরভাবে পালন করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ফুটবলের মান আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “সাজ্জাদের এই অর্জনে আমরা সবাই আনন্দিত ও গর্বিত। তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মহান আল্লাহ যেন তাকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সফলতা দেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যান।”নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি মাত্র। আপনাদের ভালোবাসা, উৎসাহ ও দোয়া আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আমি আমার এই জায়গা থেকে দেশের ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিতে পারি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে পারি।সাজ্জাদ হোসেনের এই অর্জনে তার পরিবার, স্বজন, শিক্ষক, সহকর্মী ও এলাকাবাসী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় দায়িত্ব পালন করে মহেশপুরের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবেন।