যশোরের চৌগাছায় প্রেমের অভিনয় ও বিয়ের ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক তরুণীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের গয়ড়া গ্রামের মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে এবং চৌগাছা কামিল মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী পরিচয়ের আড়ালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোনে সম্পর্ক গড়ে তুলে নারীদের আর্থিক ও মানসিকভাবে প্রতারিত করাই তার মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়, ইসমাইল নিজেকে বিভিন্ন পরিচয় ও বিত্তশালী পরিবারের সন্তান হিসেবে উপস্থাপন করতেন। শুরুতে মিষ্টি কথা ও সহানুভূতিশীল আচরণের মাধ্যমে তরুণীদের আস্থা অর্জন করতেন। সম্পর্ক গাঢ় হলে কৌশলে বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে নগদ অর্থ, বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ও মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে সহজ-সরল তরুণীদের সাথে যোগাযোগ তৈরি করা, অসুস্থতা বা পারিবারিক সমস্যার কথা বলে ধাপে ধাপে টাকা আদায় করা এবং পরবর্তীতে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করাই ছিল তার প্রধান কৌশল।

ইসমাইলের প্রতারণার শিকার হয়েছেন একাধিক স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও তরুণী। তবে সামাজিক মর্যাদা ও লোকলজ্জার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী কিংবা তাদের পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগীর অভিভাবক জানান, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা সরাসরি আইনি পদক্ষেপে যেতে দ্বিধাবোধ করছেন, অথচ এই তরুণের কর্মকাণ্ডে একাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মাদ্রাসার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত একজন শিক্ষার্থীর এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সচেতন মহল চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। স্থানীয়দের মতে, ইসমাইলের এ ধরনের কর্মকাণ্ড উঠতি বয়সী তরুণদের নৈতিক অবক্ষয়ের পথ প্রশস্ত করছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণা রোধে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় প্রশাসনিক নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।