সৌদি আরবের ওপর অবিলম্বে সামুদ্রিক অবরোধ চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

​হুথি বাহিনীর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শত্রুপক্ষের ওপর এই নৌ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘নিপীড়নমূলক’ অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

​এদিকে হুথিদের এই ঘোষণার বিষয়ে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে এশীয় দেশগুলোতে সৌদি তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ অন্তত সাত শতাংশ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

​জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান বিভিন্ন সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ইতিমধ্যে ১০ শতাংশ কমেছে। এর সঙ্গে নতুন এই নৌ অবরোধ যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

​যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাশা রিপোর্টের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলবাশার মনে করেন, সৌদি বন্দরগামী জাহাজে হুথিরা সরাসরি হামলা চালাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এ ধরনের ঘোষণা কেবল হামলা ছাড়াই সমুদ্রপথে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করবে এবং সৌদি বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়তে পারে।

​উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রित একটি বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার অভিযোগ ওঠার পর দুই পক্ষের মধ্যে চলা চার বছরের যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যায়। এর পরই নতুন করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হলো।

সুত্র:রয়টার্স