স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হলো আর্জেন্টিনার। পুরো ম্যাচে স্পেনের নেওয়া ২০টি শটের মধ্যে ১১টিই দারুণভাবে ঠেকিয়ে দলকে ম্যাচে রেখেছিলেন অ্যাস্টন ভিলার আলবিসেলেস্তে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের করা লক্ষ্যভেদী গোলটি ফেরাতে ব্যর্থ হলে বিষাদ নেমে আসে আর্জেন্টাইন শিবিরে, আর প্রথমবার বিশ্বজয়ের আনন্দে মাতে স্পেন।
শুরু থেকেই অতিরিক্ত রক্ষাণাত্মক ভঙ্গিতে মাঠে নেমেছিল স্কালোনির শিষ্যরা। প্রতিপক্ষের রক্ষণে তেমন কোনো হুমকিই তৈরি করতে পারছিল না তারা। দলের এমন রক্ষণাত্মক ও নড়বড়ে খেলায় প্রথমার্ধের বিরতিতে ড্রেসিংরুমে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্তিনেজ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে বিরতিকালে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে মার্তিনেজকে বলতে শোনা যায়,
“কাপুরুষের মতো পেছনে না খেলে সাহস ও হৃদয় দিয়ে সামনে এগিয়ে খেলো। আমাদের জয়ের ক্ষুধা ওদের চেয়ে অনেক বেশি। স্রেফ তিনটা সঠিক পাস বাড়ালেই মেসি বল পেয়ে যাবে। চলো, সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণে যাই। এই ম্যাচ আমাদের জিততেই হবে।”
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির দিকে আক্রমণ সাজানোর যে কৌশল সাফল্য এনে দিয়েছিল, ফাইনালে তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। বিরতির পর অধিনায়ক লিওনেল মেসিও সতীর্থদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করে বলেন,
“সবাই নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলো। আমরা তো সবসময় মাঠে আমাদের ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতার পরিচয় দিয়ে এসেছি, আজ কেন পিছিয়ে থাকব?”
এমনকি ম্যাচ শুরুর আগেও খেলোয়াড়দের সুড়ঙ্গে শান্ত থেকে নিজস্ব ঢঙে খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন মেসি।
বিরতির পর আর্জেন্টিনা নিজেদের খেলায় কিছুটা ধার বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসের প্রথম ৯০ মিনিটে গোলের উদ্দেশ্যে কোনো সঠিক শটই নিতে পারেনি তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অতিরিক্ত সময়ে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পরই কেবল স্প্যানিশ গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিতে পেরেছিলেন মেসি।
ম্যাচ শেষে নিজের হৃদয়ভঙ্গের কথা ব্যক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি লেখেন,
“এই পরাজয়ের বেদনা অনেক গভীর, যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে।”
এদিকে, ট্রফি হাতছাড়া হলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে মার্তিনেজের পোস্টের নিচে অসাধারণ পারফরম্যান্স ফুটবলাঙ্গনে তাঁর কদর আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাস তাকে নিজেদের দলে ভেড়াতে বেশ আগ্রহী।