1. adnanmim872@gmail.com : doinikinsafercokh :
  2. Munabbiha145@gmail.com : Munabbia A : Munabbia A
  3. fauzursabit135@gmail.com : Fauzur Sabit : Fauzur Sabit
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

ঝিনাইদহে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

মামুন হোসেন,মহেশপুর ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
  • Update Time : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৯ Time View

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতের বদলে পদে পদে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোছা. হেলেনা আক্তার নিপার বিরুদ্ধে। আউটসোর্সিং পদে কর্মরত কর্মচারীদের পুনর্বহাল, নিয়োগপত্র নবায়ন ও পদোন্নতির নামে অর্থ দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এখন সরগরম স্বাস্থ্য খাত।
​এর আগে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকাকালে ভুয়া ক্রয় ভাউচারের মাধ্যমে অন্তত চার কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে কোনো প্রকার কঠোর শাস্তি না দিয়ে কেবল মহেশপুরে বদলি করেই তাঁকে পার পাইয়ে দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ। নতুন কর্মস্থলে এসেও তিনি একই ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন বলে উঠে এসেছে লিখিত অভিযোগে।
​নিয়োগপত্র ও নবায়নে অর্থ দাবি:
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ ও নবায়নে অনিয়মের মাত্রা ছাড়িয়েছে। গোপালপুর গ্রামের শাকিল আহম্মেদ ২০২২ সাল থেকে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘কুক-মশালচি’ পদে কর্মরত। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি অর্থবাজেটে নতুন নিয়োগপত্র দেওয়ার বিধান থাকলেও ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে তাঁকে তা দেওয়া হয়নি। উল্টো নিয়োগপত্রের বিষয়ে কথা বলতে গেলে ডা. হেলেনা আক্তার নিপা তাঁর কাছে সরাসরি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং টাকা না দিলে কাজ করতে নিষেধ করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ।
​শুধু শাকিলই নন, হাসপাতালে কর্মরত ৮ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীর সবার কাছেই একইভাবে নিয়োগপত্র নবায়নের নামে অর্থ দাবি করা হয়েছে।
​ঠিকাদারির সঙ্গে যোগসাজশ ও স্বজনপ্রীতি:
অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘আল ওয়াফা সিকিউরিটি সার্ভিসেস’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজশ করে মোটা অঙ্কের বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন ওই কর্মকর্তা। পান্না খাতুন নামের এক কর্মচারী ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ‘আয়া’ থেকে ‘টিকিট ক্লার্ক’ পদে পদোন্নতিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।
​অন্যদিকে শিমু খাতুন নামের এক টিকিট ক্লার্ক ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করেও বাকি টাকা দিতে না পারায় তাঁকে কাজ থেকে ছাঁটাই করে নতুন আরেকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে একাধিক কর্মীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে আদায়েরও মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগীরা।
​দুদক ও মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ:
সীমাছাড়া দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের প্রতিকার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় এবং ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন বরারব লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা।
​অভিযোগ অস্বীকার ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপা জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের পুরো বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণাধীন, এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরাসরি কোনো লেনদেনের সুযোগ নেই।
​এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, “আউটসোর্সিং নিয়োগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিষয় হলেও কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনৈতিক লেনদেন বা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Themes By BDITWork.Com