1. adnanmim872@gmail.com : doinikinsafercokh :
  2. Munabbiha145@gmail.com : Munabbia A : Munabbia A
  3. fauzursabit135@gmail.com : Fauzur Sabit : Fauzur Sabit
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ন

ডিবি হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু: আদালতে নেওয়ার আগেই বাথরুমে গলায় ফাঁস!

বগুড়া প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৮ Time View

বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, হাজতখানার বাথরুমে লুঙ্গি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০) বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোরগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নান হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শনিবার আসাদকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ জানিয়েছেন, গত ২৮ জুন সন্ধ্যার পর আরও দুজনকে নিয়ে যাত্রী সেজে অটোরিকশা ভাড়া করেন। পরে সারিয়াকান্দি এলাকায় চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বিলে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে নওগাঁ যান। চার্জ শেষ হয়ে গেলে সেখানে অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের তথ্যমতে, রোববার দুপুর ১২টার দিকে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট পরও তিনি বাইরে না আসায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ভেতরে গিয়ে তাকে লুঙ্গি দিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ইফতেখারুল ইসলাম জানান, সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে আসাদকে হাসপাতালে আনা হয়। অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়।

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকালে নাশতা করার পর আসাদ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। এরপর সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি বাথরুমে প্রবেশ করেন।

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন এবং নিহতের মোবাইল ফোন তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়ার আগেই তিনি আত্মহত্যা করেন বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

তিনি আরও জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনায় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাশেদুল ইসলাম রনি জানান, মৃতের গলায় ফাঁসের স্পষ্ট দাগ ছিল এবং শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, আসাদের বাবা ও মাদ্রাসাশিক্ষক মতি মুন্সি জানান, উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর তার ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। ডিবি হেফাজতে আত্মহত্যার খবর তিনি পরে জানতে পেরেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Themes By BDITWork.Com