
ভারত থেকে অবৈধভাবে নদীপথে গরু এনে সীমান্তবর্তী এলাকায় রেখে পরে স্থানীয় গরু হিসেবে হাটে বিক্রির অভিযোগে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ২৩ জুলাই পুলিশের অভিযানে ৪টি ভারতীয় গরুসহ ৫ জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভারতীয় সিমকার্ড, ভারতীয় চোরাই মোবাইলসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ভূরুঙ্গামারী থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় গরুসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। জব্দ করা গরুগুলোর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের আঘাতের চিহ্ন এবং দীর্ঘ পথ টেনে আনার কারণে পায়ের ক্ষুরে ক্ষত পাওয়া গেছে, যা সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে আনার প্রমাণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তদন্তে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ার চর সীমান্তে দুধকুমার নদের ভারতীয় অংশে নির্মিত একটি বেইলি সেতুর নিচ দিয়ে ভারতীয় চোরাকারবারিরা বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করে গরু নদীতে ভাসিয়ে দেয়। পরে বাংলাদেশ অংশে নৌকায় অপেক্ষমাণ চোরাকারবারিরা গরুগুলো তুলে কালজানি ঘাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন গৃহস্থের বাড়িতে রাখে। সুযোগ বুঝে এসব গরু স্থানীয় গরু হিসেবে ভূরুঙ্গামারী হাটসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হতো।
পুলিশের দাবি, এ ধরনের চোরাচালানের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় খামারিরা তাদের উৎপাদিত গরুর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভারতীয় সিমকার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, কাজিয়ার চর সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকায় চোরাকারবারিরা ভারতীয় সিম ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষা করে। শিলখুড়ি ও তিলাই ইউনিয়নের কয়েকশ চোরাকারবারির কাছে হাজার হাজার সচল ভারতীয় সিম রয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন অভিযানে ভারতীয় সিম ও চোরাচালানি পণ্যসহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ও ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভারতীয় গরু, ভারতীয় সিমকার্ড, ভারতীয় চোরাই মোবাইলসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “সীমান্তবর্তী শিলখুড়ি, তিলাই ও পাথরডুবি ইউনিয়নের একটি বড় অংশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে চোরাকারবারিদের সামাজিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ না নিলে চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply