
শিক্ষাঙ্গন যখন নরক, শিক্ষক যখন রক্ষক হয়ে ভক্ষক!
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি শুধু জঘন্যই নয়, আমাদের পুরো সমাজব্যবস্থার মুখে এক মস্ত বড় চড়।
যে শিক্ষকের কাছে বাবা-মা তাদের সন্তানকে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে আসেন, সেই শিক্ষকই যদি ছুটির পর ১০ বছরের এক শিশুকে ভবনের স্টোর রুমে নিয়ে এমন পৈশাচিক নির্যাতন চালায়, তবে আমাদের সন্তানরা নিরাপদ কোথায়? আরও লজ্জাজনক বিষয় হলো, ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিশুটির মুখ বন্ধ করার জন্য মাত্র ২০ টাকা দেওয়া হয় এবং মুখ খুললে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়!
এখানেই শেষ নয়, এই জঘন্য অপরাধের পর আমাদের সমাজ ও রাজনীতির নোংরা রূপটি আবারও সামনে এসেছে:
টাকা দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা: স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক মেম্বার ও নেতারা রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়িতে গিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করার চেষ্টা করে!
ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলা: পরদিন সকালে পরিবারটি বিদ্যালয়ে গিয়ে জাজ্বল্যমান এই অপরাধের জবাব চাইলে, প্রধান শিক্ষক ও তার অনুসারীরা উল্টো ভুক্তভোগী শিশুর মামা, দাদা ও দাদির ওপর হামলা চালিয়ে তাদের আহত করে।
ধিক্কার জানাই এই বিকৃত মানসিকতার শিক্ষককে, আর ধিক্কার জানাই সেইসব তথাকথিত নেতাদের যারা অপরাধীকে বাঁচাতে বাণিজ্যে নেমেছিল!
ধন্যবাদ বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশকে, ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তারা দ্রুত অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এবং ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারী সাবেক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
আমাদের স্পষ্ট দাবি:
১. কোনো রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবের কাছে মাথা নত না করে এই মামলার দ্রুত ও কঠোর বিচার করতে হবে।
২. মূল অপরাধী এবং অপরাধ আড়াল করার চেষ্টাকারী প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি বা সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে হবে যেন তারা কোনো হুমকির শিকার না হয়।
শিক্ষাঙ্গন হোক নিরাপদ, শিশুদের ওপর সব ধরনের যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন বন্ধ হোক। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
Leave a Reply