
সাভারের আশুলিয়ায় বিকাশের ইলেকট্রনিক অর্থ (ই-মানি) হিসেবে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নায়ফা ট্রেড বিডি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আত্মসাৎ হওয়া বাকি ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন নায়ফা ট্রেড বিডির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার মো. আল আমিন (২১) এবং নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়ার অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার ইউসুফ রায়হান (২৪)। এ ঘটনায় তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আল আমিন ২০২২ সালের ২০ মে থেকে এবং ইউসুফ রায়হান ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া জাহিদ হাসান অন্তর নামে আরেক কর্মচারীকে এ ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী, নায়ফা ট্রেড বিডি ও নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়ার সহকারী জেনারেল ম্যানেজারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই রাতে বিকাশ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে ই-মানি উত্তোলনের উদ্দেশ্যে প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র অ্যাকাউন্টস জেনারেল ম্যানেজারের কাছ থেকে ওটিপি সংগ্রহ করেন আল আমিন। পরে সন্দেহ হলে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।
এরপর রাতেই আশুলিয়ার জামগড়া বঙ্গ মার্কেট এলাকায় ইউসুফ রায়হানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্যান্টাসি কিংডমের পেছনের চিত্রশাইল-কাঠালতলা এলাকা থেকে আল আমিনকে আটক করা হয়। পরে হিসাব-নিকাশ যাচাই করে আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার দাবি করে পুলিশ।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওটিপি ব্যবহার করে আল আমিন ঢাকা ব্যাংকের হিসাব থেকে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার ই-মানি মাস্টার ওয়ালেটে স্থানান্তর করেন। এর মধ্যে ৬৫ লাখ টাকার ই-মানি ইউসুফ রায়হানের বিকাশ এসএ ওয়ালেটে পাঠানো হয়, যা বাজারে বিতরণ না করে নিজেদের কাছে রাখা হয় বলে অভিযোগ। বাকি ৪০ লাখ টাকার ই-মানি বাজারে বিতরণ করা হয়েছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিনের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং ইউসুফ রায়হানের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। নায়ফা ট্রেড বিডি কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযানে মোট ৭২ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন স্বীকার করেছেন যে, জাহিদ হাসান অন্তরও এ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত। তিনজন মিলে গত ২৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে নায়ফা ট্রেড বিডি ও নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়া কার্যালয় থেকে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ই-মানি আত্মসাৎ করেন। ঘটনার পর জাহিদ হাসান অন্তর আত্মগোপনে চলে যান।
নায়ফা ট্রেড বিডির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) ইফরান বলেন, প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ই-মানি উত্তোলন করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে জানানো হলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, আত্মসাৎ হওয়া বাকি ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply