
ঝিনাইদহে রাবেয়া খাতুন (১০) নামে এক কিশোরী শিক্ষার্থীকে নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে বাবার জমি বিক্রি করে রাখা ১৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারই একান্ত বান্ধবী আনিকা ও তার মায়ের বিরুদ্ধে। আনিকা (১১) ঝিনাইদহ পৌর এলাকার কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণী এবং রাবেয়া (১০) একই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঝিনাইদহ পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কালিকাপুর মহিলা কলেজ পাড়ায় ঘটে বলে অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে।
এঘটনায় লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর নিকট থেকে জানা গেছে, দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত মহিলা কলেজ পাড়ায় সাড়ে তিন শতক জমি কিনে সেখানে একটি কুঁড়ে ঘর করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন মাগুরা জেলার মৃত আনছার আলীর ছেলে আবুল হোসেন (৪৫)। বাড়িতে বেড়ে ওঠা মেয়ে ও পরিবারের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে তিনি গ্রাম থেকে জমি বিক্রি করে ঐ জায়গায় একটি পাকা বাড়ি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এ পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় গত মাস খানেক আগে আবুল হোসেন তার আপন বড় ভায়ের আমেরিকা প্রবাসী ভাতিজার নিকট ১০ শতক জমি এবং অন্যত্র কিছু জমি বন্ধক রেখে ১৪ লাখ টাকা বাসায় এনে পরিবারের সামনে একটি টিনের বাক্সের মধ্যে রাখে।
বিষয়টি মেয়ে রাবেয়া খাতুন তার বান্ধবী আনিকার বাসায় যেয়ে গল্প করলে ঐ টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা আটে আনিকার পরিবার। পরিকল্পনা সফল করতে একপর্যায়ে মেয়ে আনিকা ও মেয়ের বান্ধবী রাবেয়াকে নিয়ে জেলার মহেশপুর উপজেলায় তার বাবা-মায়ের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যায় আনিকার মা। সেখানে ৭ দিন রেখে কিশোরী রাবেয়াকে বিভিন্ন প্রলোভন এবং নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। রাবেয়াকে প্রলোভন দেখানো হয় ঐ টাকা দিলে আনিকার বাবা বিদেশে যাবে এবং এর দিগুন টাকা ও বিভিন্ন ধরনের বিদেশি সোনার গহনার।
রাবেয়া জানায়, মহেশপুর নিয়ে প্রথমে আমাকে একটি গ্লাসে পানি জাতীয় কি যেন একটা খেতে দেয়। আনিকার মা বলে এই শরবতটা খাও তোমার ভালো লাগবে। শরবত খাওয়ার পর কিছু সময় আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি। এভাবে পুরো ৭দিন আমাকে শরবত খাওয়াতে থাকে আর বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতে থাকলে আমি তার কথায় রাজী হয়ে যায়। ঘটনার দিন আমার বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে আনিকা আমার বাসায় এসে বাবার গচ্ছিত ১৪ লাখ টাকা রাখা ঐ বাক্সের চাবি চায়। আমি ফ্রিজের উপরে চাবি আছে বললে, সেখান থেকে আনিকা চাবি নিয়ে বাক্সের একটি তালা খোলে, আর আমি আরেকটা তালা খুলে দিই। বাক্সের মধ্য থেকে সব টাকা আনিকার গায়ের ওড়নার ভিতরে উঠায় আমি আর আনিকা। পরে বাইরে চারিদিকে দেখে আনিকা লুকিয়ে নিয়ে চলে যায়।
রাবেয়ার বাবা আবুল হোসেন জানান, এভাবে প্রায় ১মাস চলে গেছে আমরা কিছুই জানিনা। হঠাৎ গত ২৩ জুলাই বাক্স খুলে দেখি টাকা নেই। পরে আমার স্ত্রীর কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছুই বলতে পারলেন না। পরে মেয়ে রাবেয়ার কাছে শুনলে আমার ভেঙে পড়া দেখে সে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খুলে বলে।
তিনি বলেন, মেয়ের কাছে ঘটনা শুনে আমি সেই মুহূর্তে কালিকাপুর প্রাইমারী স্কুলের সামনে আনিকাদের বাসায় যেয়ে শুনলে, আমাকে বিভিন্ন লোক দিয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয়। পরে কোন কুল কিনারা না পেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করি।
সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে তিনি আরোও জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ দু’পক্ষকে ডেকে শুনানি নিয়েছেন। পরবর্তী টাইমের মধ্যে দু’পক্ষের নিকট উপযুক্ত প্রমাণ হাজির করতে বলা হয়েছে।
Leave a Reply