
মাত্র ১৪ বছরের এক কিশোরী, যার হাতে থাকার কথা ছিল বই, তাকে আজ অকালে বিদায় নিতে হলো। তার একমাত্র চাওয়া ছিল একটু পড়াশোনা করা, নিজের পায়ে দাঁড়ানো। শৈলকুপার ধাওড়া গ্রামের মনিরা খাতুন বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আকুল আবেদন জানিয়েছিল—”আমি এখন বিয়ে করব না, আমাকে পড়তে দাও।” কিন্তু পরিবারের অবুঝ সিদ্ধান্ত ও অসচেতনতার কাছে তার কান্না হেরে যায়। অবশেষে অভিমান আর চরম অসহায়ত্বে নিজের জীবন দিয়েই এই অকাল বিয়ের আয়োজন রুখে দিল মেয়েটি।
প্রতি মাসেই উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদের মিটিংগুলোতে কোন না কোন ভাবে আত্মহত্যার বিষয়টি উঠে আসে, তাতে হয়তো এ অঞ্চলে আত্মহত্যার হার কিছুটা কমেছে বটে, তবে এমন করুণ মৃত্যু কখনোই কাম্য নয়। মনিরা আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, কিন্তু সমাজ ও সচেতন মানুষের বিবেকের কাছে দিয়ে গেছে এক বড় মেসেজ—আর কোনো কিশোরীর স্বপ্ন যেন এভাবে অকালে থমকে না যায়। আসুন, সন্তানের আকুতি আর ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে আমরা সবাই সচেতন হই।
Leave a Reply