1. adnanmim872@gmail.com : doinikinsafercokh :
  2. Munabbiha145@gmail.com : Munabbia A : Munabbia A
  3. fauzursabit135@gmail.com : Fauzur Sabit : Fauzur Sabit
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় একে একে চারজনকে হত্যা

রংপুর জেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩২ Time View

রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই দুই মামাতো ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তাঁরা একই এলাকার বাসিন্দা। রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর বর্ণনা দেন।

পুলিশের দাবি, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। তাঁদের ইয়াবা সেবনের দৃশ্য গণপতি দেখে ফেলায় পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এরপর তাঁকে প্রথমে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

এরপর সিঁড়িতে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মাস্টার্স পড়ুয়া মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী এবং সবশেষে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো, পুলিশ বলছে, চারজনকে হত্যার পরও ওই বাড়িতেই রাত কাটায় অভিযুক্তরা। পরদিন সকালে গোসল ও খাওয়া শেষে তারা বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় মাটির নিচে পুঁতে রাখে।

শনিবার রাতে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গণপতির মরদেহ পাওয়া যায় ছাদে, স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ ছিল সিঁড়িতে এবং ছেলে প্রিয়মের মরদেহ পাওয়া যায় খাটের নিচে। তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল পুলিশ।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর। নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতের পর পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। শনিবার রাতে বাড়িতে গিয়ে বাইরে থেকে তালা দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে দরজা খুলে একে একে চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়।

তবে তদন্তের শুরুতে ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে সন্দেহ করেছিল পুলিশ। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল, ঘর তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং স্বর্ণালঙ্কার রাখার স্থানও ভাঙা ছিল। নিহত পরিবারের স্বজনদের পক্ষ থেকেও বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির বিরোধের কথা বলা হয়েছিল। পরে তদন্তে ইয়াবা সেবন দেখা এবং পরিচয় ফাঁসের আশঙ্কাকে হত্যার মূল কারণ হিসেবে সামনে আনে পুলিশ।

একটি পরিবারের চারজন মানুষ। একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, তাঁর স্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেয়ে এবং স্কুলপড়ুয়া ছেলে। তাঁদের ঘরেই যদি অপরাধীরা ঢুকে পড়ে, চারজনকে হত্যা করে এবং হত্যার পরও রাত কাটানোর মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটে, তাহলে প্রশ্ন শুধু এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে নয়, আমাদের আশপাশের নিরাপত্তা নিয়েও।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার দুজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এখন তদন্তে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং লুট করা সম্পদের সঙ্গে ঘটনার সম্পর্ক কতটুকু, সেসবও পরিষ্কার হওয়া জরুরি।

চারজনের হত্যার ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।

এই হত্যাকাণ্ডের পুরো সত্য আদালতে প্রমাণিত হওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতগুলো প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পেছনে যে কারণই থাকুক, একটি পরিবারের জীবন এক রাতেই চিরতরে বদলে গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Themes By BDITWork.Com