
০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ জয় করেছেন স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি। তবে পুরো টুর্নামেন্টে তার নামের পাশে কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট না থাকায়, এই পুরস্কারের যোগ্যতা নিয়ে ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। গোল-অ্যাসিস্টের চেনা সমীকরণের বাইরে গিয়ে কোন জাদুতে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি নিজের করে নিলেন রদ্রি?
১৯ জুলাই (রোববার) মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে পরাস্ত করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্পেন। আর লা রোহাদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় রূপকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা মিডফিল্ডার। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে স্পেনের মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ, বল পজিশন ধরে রাখা এবং রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির মূল দায়িত্বটি একহাতে সামলেছেন রদ্রি।
গোল না করেও যেভাবে ম্যাচ জেতালেন স্কোরশিটে নাম না থাকলেও মাঠে রদ্রির প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ মাঝমাঠেই নসাৎ করে দেওয়া এবং বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে তিনি ছিলেন অনন্য। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের রণকৌশলের মূল চালিকাশক্তিই ছিলেন এই মিডফিল্ডার।
রদ্রির এই অনবদ্য পারফরম্যান্সের সুবাদেই পুরো বিশ্বকাপে স্পেন মাত্র ১টি গোল হজম করেছে। মাঝমাঠে তিনি দেয়াল হয়ে দাঁড়ানোর ফলে স্পেনের রক্ষণভাগ যেমন স্বস্তি পেয়েছে, ঠিক তেমনি আক্রমণের পথও সুগম হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো আসরে আটটি ম্যাচ খেলে ৬৫০টিরও বেশি সফল পাস দিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি হাই-ইনটেনসিটি রান বা উচ্চগতির দৌড়ের দিক থেকেও টুর্নামেন্টের বাকিদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন রদ্রি। এই পরিসংখ্যানগুলোই প্রমাণ করে স্প্যানিশ শিবিরে তার কার্যকারিতা কতটা বেশি ছিল|
সাধারণত গোলদাতা কিংবা ফরোয়ার্ড লাইনের ফুটবলারদের হাতেই গোল্ডেন বলের মতো পুরস্কার বেশি শোভা পায়। তবে এবার সেই চেনা ট্রেন্ড ভেঙেছে। এবারের আসরে লিওনেল মেসি ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করে লাইমলাইটে থাকলেও, বিচারকদের চোখে পুরো টুর্নামেন্টে রদ্রির ধারাবাহিকতা ও দলগত অবদানই সেরা বিবেচিত হয়েছে। আর মেসিকে পেছনে ফেলে রদ্রির এই গোল্ডেন বল জয় আরও একবার প্রমাণ করলো—ফুটবলে সব অবদান গোল বা অ্যাসিস্টের সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।
Leave a Reply