
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজে বিনামূল্যে চক্ষু সেবার দোহাই দিয়ে সাধারণ ও নিরীহ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চক্ষু ছানি ও মাংস বৃদ্ধির মতো স্পর্শকাতর চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিটি রোগীর পকেট কেটে রমরমা বাণিজ্যিক ব্যবসা ফেঁদে বসেছে একটি প্রতারক চক্র।
প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ক্যাম্প প্রাঙ্গণে সেবা নিতে আসা দূর-দূরান্তের অসহায় ও সাধারণ রোগীদের নাম নিবন্ধনের কথা বলে প্রথমেই ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ৬০০ টাকার একটি করে স্লিপ। পরবর্তীতে ছানি অপারেশন ও চোখের মাংস কাটার (পিটেরিজিয়াম) চিকিৎসার জন্য চূড়ান্ত ধাপে প্রত্যেকের কাছ থেকে হাঁকা হচ্ছে নগদ ৬,৫৩০ টাকা।
বিনামূল্যের এই বিশেষ চক্ষু শিবিরে চিকিৎসার নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবা নিতে আসা প্রতারিত রোগীরা। চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভের সাথে জানান, “আমরা জেনেছিলাম এখানে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু এসে দেখি পদে পদে টাকা। নাম রেজিস্ট্রি করতেই ৬০০ টাকা নিচ্ছে, আর অপারেশনের জন্য সাড়ে ৬ হাজার টাকার বেশি চাচ্ছে। এটা বিনামূল্যে সেবার নামে সুস্পষ্ট প্রতারণা।”
চিকিৎসায় ব্যবহৃত চশমার নামেও ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।
আইন ও স্বাস্থ্যনীতির তোয়াক্কা না করে এভাবে যেখানে-সেখানে নামসর্বস্ব কিংবা ভুঁইফোড় মেডিকেল ক্যাম্প বানিয়ে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে অবগত করা হলে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এভাবে নিয়ম-নীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে যেখানে-সেখানে ক্যাম্প করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না।” তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এদিকে আজ ১৯ আগস্ট সকাল ১১টায় সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয় সচেতন মহল এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় স্বাস্থ্যসেবার দোহাই দিয়ে এমন ফাঁদ পাতা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের একটাই দাবি—অবিলম্বে এই ভুয়া ও বাণিজ্যিক চক্ষু ক্যাম্পের সঙ্গে জড়িত প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি আওতায় আনা হোক, যাতে চিকিৎসার নামে নিরীহ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে আর কেউ প্রতারণা করতে না পারে।
Leave a Reply