
পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ভারত সফর করবেন না বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান—এমন আলোচনাই এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও কূটনৈতিক মহলে টক অব দ্য টাউন। কূটনৈতিক সূত্র এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে এই তথ্য সামনে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং পারস্পরিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ নির্ধারণে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে জনগণের সেন্টিমেন্ট এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিতে অটল রয়েছে বিএনপি।
দলীয় একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রধান অভিযুক্ত এবং ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার জন্য ফেরত পাঠানো না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভারতের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ঢাকা থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সফর করা সমীচীন হবে কি না—তা নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ে গভীর মূল্যায়ন চলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই দৃঢ় অবস্থান বাংলাদেশের জনগণের অভ্যন্তরীণ আকাঙ্ক্ষা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। এই বার্তাটি নতুন দিল্লির নীতিনির্ধারকদের কাছেও পরিষ্কারভাবে পৌঁছে গেছে যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির পূর্বশর্ত হলো বিগত সরকারের বিতর্কিত ও একতরফা অবস্থানের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
এদিকে, এই বিষয়ে বিএনপি বা ভারতের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশেই নির্ভর করবে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ অনুরোধের প্রতি ভারত সরকারের সাড়া দেওয়ার ধরনের ওপর।
Leave a Reply