1. adnanmim872@gmail.com : doinikinsafercokh :
  2. Munabbiha145@gmail.com : Munabbia A : Munabbia A
  3. fauzursabit135@gmail.com : Fauzur Sabit : Fauzur Sabit
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন

ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রমাণিত, তবুও অন্য স্কুলে বদলি; প্রশ্নের মুখে শিক্ষা অফিস

যশোর প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ Time View

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার জয়রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) মো. আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে কোমলমতি ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর অবশেষে তাঁকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, যশোরের জারি করা অফিস আদেশে তাঁকে একই উপজেলার বড় খলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জি. এম. আলমগীর কবির স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, “প্রশাসনিক কারণে” তাঁকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ বেতন ও বেতনক্রমে বড় খলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হলো। সেখানে সহকারী শিক্ষকের বিদ্যমান শূন্য পদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে তাঁকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। তবে এই বদলি ঘিরেই এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে। তাঁদের প্রশ্ন যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, তাঁকে আবারও একই উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হলো কেন?

জানা গেছে, জয়রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে একাধিক কোমলমতি ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, চুম্বন এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। অভিভাবক ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি ওঠে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছিল। এরই মধ্যে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বদলি আদেশ প্রকাশিত হয়। কিন্তু অভিযোগের ধরন ও তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে হয় না এমন কোনো দায়িত্বে না দিয়ে আবারও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহলের অনেকে। তাঁদের আরও প্রশ্ন, বড় খলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কি কোনো ছাত্রী নেই? সেখানে তো কোমলমতি মেয়েশিশুরাও পড়াশোনা করে। তাহলে জয়রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে ধরনের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে, একই ধরনের ঘটনা নতুন কর্মস্থলে আর ঘটবে না এ বিষয়ে প্রশাসন কীভাবে নিশ্চিত হলো?

সচেতন মহলের ভাষ্য, একটি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর তাঁকে শুধু অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করাই যথেষ্ট কি না, সেটিও ভাবার বিষয়। কারণ বদলি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; বরং একই ধরনের ঝুঁকি অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সেখানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তাঁরা বলছেন, “একটি বিদ্যালয়ের অভিযোগের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু নতুন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।”

এদিকে আব্দুস সবুরের ছুটির আবেদন ও দাখিল করা একটি মেডিকেল সনদ নিয়েও এর আগে প্রশ্ন উঠেছিল। স্ত্রীর চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে ছুটি নেওয়ার পর পরবর্তীতে নিজের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে চিকিৎসাজনিত ছুটির আবেদন করেন তিনি। সেই আবেদনের সঙ্গে দেওয়া মেডিকেল সনদে তারিখের অসংগতি নিয়েও আলোচনা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস আদেশে তাঁর বদলির কারণ হিসেবে “প্রশাসনিক কারণে” এবং বড় খলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি অফিস আদেশে উল্লেখ নেই। ফলে সচেতন মহলের প্রশ্ন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে একই উপজেলার আরেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির আগে শিশুদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির বিষয়টি কি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে? একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়েও প্রয়োজনীয় নজরদারি থাকবে কি না, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসনের যেকোনো সিদ্ধান্ত হতে হবে স্বচ্ছ, যুক্তিসঙ্গত ও জনআস্থার উপযোগী।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওয়ালীয়ার রহমান বলেন, “জয়রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা তদন্ত করি। তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়, যারা সরেজমিনে তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে তদন্ত রিপোর্ট আমাদের কাছে আসে। আমরা তদন্ত রিপোর্টসহ বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠিয়ে দিই। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তার বিভাগীয় মামলার জন্য ব্যক্তিগত শুনানি ও অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। তার সাথে সাথে কোমলমতি শিশুদের সঠিক পাঠদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠু ও সুন্দর রাখার স্বার্থে প্রশাসনিক কারণে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এই বদলির কারণ ওই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা যাতে সুষ্ঠু ও আনন্দপূর্ণ পরিবেশে পাঠগ্রহণ করতে পারে, সেটাই আমাদের বিশ্বাস। এবং উনিও অন্য জায়গায় গিয়ে তাঁর শিক্ষকতা পেশাকে সঠিক জায়গায় রাখার জন্য কাজ করবেন। আমরা সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সেভাবেই আমাদের কার্যক্রমগুলো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Themes By BDITWork.Com