
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করা হলে ইরানের সাথে কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে এ জন্য তেহরানকে তাদের বর্তমান নীতি ও আচরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে বলে তিনি শর্ত দিয়েছেন।
গত রোববার (১৯ জুলাই) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ওয়াশিংটন আলোচনার বিপক্ষে নয়। তবে যেকোনো চুক্তিকে অবশ্যই ফলপ্রসূ হতে হবে এবং ইরানকে তা বাস্তবে মেনে চলতে হবে।
মার্কো রুবিও বলেন, “যেকোনো সমঝোতা হতে হবে বাস্তবসম্মত, যা তারা (ইরান) পুরোপুরি মেনে চলতে প্রস্তুত থাকবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, সপ্তাহখানেক আগে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা না করার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা না করে তেহরান উল্টো তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, “ইরান যদি তাদের আচরণ পরিবর্তন করে, তবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও পরিবর্তিত হবে।”
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দুটি ভিন্ন মতাদর্শ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একটি পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখতে চায়, অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে বেশি চিন্তিত।
রুবিও বলেন, ইরানের অভ্যন্তরে যারা দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন চান, তারা যদি আলোচনার দায়িত্ব নেন, তবে তা একটি বড় ও ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে গণ্য হবে।
ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেশটির নেতৃত্বকেই দায়ী করেন তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা তেল বিক্রির মাধ্যমে তেহরান যে অর্থ আয় করে, তার সিংহভাগই তারা নিজেদের জনগণের কল্যাণে ব্যয় না করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর পেছনে খরচ করে।
হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে রুবিও বলেন, বর্তমানে মূলত একাই এই দায়িত্ব পালন করছে ওয়াশিংটন। আর এ কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার খরচ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও ভাগ করে নিক।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের দেশগুলোকেই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি ইরানের মতো কোনো দেশের একক নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি না, যা বর্তমান আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
Leave a Reply