
ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা খাতের চরম বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্মের ‘কাকরোচ আন্দোলন’ এখন আর কেবল দেশটির সীমানায় আটকে নেই, আন্তর্জাতিক রূপ নিতে শুরু করেছে।
প্রাথমিকভাবে কেবল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও, দিন যত গড়াচ্ছে পরিস্থিতি ততটাই জটিল হচ্ছে। বর্তমানে এটি একটি সুসংগঠিত গণবিক্ষোভে পরিণত হয়েছে, যেখানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কার এবং পুরো শাসনব্যবস্থার কাছে জবাবদিহিতা চাওয়ার মতো মৌলিক বিষয়গুলো সামনে আনা হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্বস্তি ও দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট—স্রেফ একজন মন্ত্রীকে পদচ্যুত করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সার্বিক ব্যর্থতার দায় পুরো সরকারকেই নিতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদি সরকারের মুখোমুখি হওয়া বিগত দিনের আন্দোলনগুলোর চেয়ে এই আন্দোলন অনেকটাই ব্যতিক্রম। অতীতে প্রায়শই বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনকে ধর্মীয়, জাতিগত কিংবা রাজনৈতিক তকমা দিয়ে ভেঙে দেওয়ার একটা কৌশল দেখা যেত। তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। চাকরি, সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার মতো বাস্তব ও স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে আন্দোলন চলায় এটিকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক তকমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তীব্র প্রতিবাদ চললেও প্রশাসনের কোনো উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি আন্দোলনকারীদের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা না বলায় ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন—
বারবার প্রশ্নফাঁসের আসল দায় কার?
শিক্ষা খাতে কী ধরণের দৃশ্যমান পরিবর্তন বা সংস্কার আনা হচ্ছে?
কেন আজ পর্যন্ত কোনো বড় কর্মকর্তা দায় স্বীকার করলেন না?
আন্দোলনের ৩২তম দিনে এসে প্রশাসনের সাথে বৈঠকের একপ্রকার আভাস মিললেও দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। আন্দোলনের মূল আয়োজক ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রধান সংগঠক অভিজিৎ দীপ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হলে প্রথম পদক্ষেপটি সরকারকেই নিতে হবে।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের এই তরুণ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ এনে সুর চড়িয়েছে প্রধান বিরোধী দলগুলো। তারা সংসদ ও রাজপথ—উভয় মাধ্যমেই সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।
বুধবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তর এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। এরই মধ্যে সাময়িক আটকাবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, তাকে যখন পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্য তার কানে কানে বলেছিলেন—“এই সরকারের পতন ঘটান।”
Leave a Reply