
সারা দেশের ন্যায় ১ দফা দাবিতে “বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ”(বিএটিবি) -এর ঝিনাইদহ লিফ রিজিওনে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক ফিল্ড টেকনিশিয়ান (এফ,টি) কর্মীদের ৭দিনের কর্মবিরতির আজ চতুর্থ দিনেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে সরাসরি কোম্পানির অধীনস্থ করার দাবিতে ১ সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়ে গত ২০ জুলাই থেকে এ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন বলে জানান, কোম্পানিটির মাঠ কর্মীরা। ১ সপ্তাহের মধ্যে এই দাবি মেনে নেওয়া না হলে, পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আন্দোলনরত কর্মীদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘ দিন ধরে বিএটিবি -এর তামাক চাষি নির্বাচন, চাষিদের পরামর্শ প্রদান এবং তামাক পাতা সংগ্রহের জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সফলভাবে পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু কোম্পানি তাদেরকে সরাসরি নিজস্ব কর্মকর্তা/কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে এম,এস,এম নামে তৃতীয় একটি ঠিকাদারি বা আউটসোর্সিং এজেন্সির মাধ্যমে পরিচালিত করছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, তৃতীয় পক্ষের অধীনে কাজ করায় তারা সব সময় একধরনের চাকরির ঝুঁকিতে থাকেন। কোন কারণে-অকারণে শুধু মুখ দিয়ে অর্ডার দিলেই চাকরি নেই হয়ে যায়। তাছাড়া যৌক্তিক দাবি নিয়ে কথা বলতে গেলেই নিজ এলাকা থেকে দুরের কোন জেলায় পোস্টিং দেওয়ার হুমকি তো আছেই। এছাড়াও সরাসরি কোম্পানির আওতায় না নেওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে একটি শীর্ষ বহুজাতিক কোম্পানিতে দিনরাত পরিশ্রম করেও কোম্পানি প্রদত্ত উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
তারা বলেন, বিএটিবি’র মূল চালিকাশক্তি হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করলেও কোম্পানিতে কোন মূল্যায়নই তাদের থাকে না। তাদের একটাই দাবি, অবিলম্বে ঠিকাদারি প্রথা বিলুপ্ত করে সরাসরি কোম্পানির রোল-এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তারা আরো বলেন, এটি আমাদের যৌক্তিক ও মৌলিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন।
ইতিমধ্যে এ আন্দোলন দমানোর ব্যার্থ চেষ্টা করতে সুবিধাবাদী এজেন্সি থেকে আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মীকে অন্যত্র বদলি করার চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা অনড় অবস্থানে থেকেই তাদের যৌক্তিক দাবি আদায় হলে সম্মানের সহিত নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাবেন।
এদিকে কর্মবিরতির কারণে লিফ প্রসেসিং এলাকার তামাক চাষিদের সঙ্গে কোম্পানির তদারকি ও পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের নিয়মিত কাজ সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিএটিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি তাদের ১ দফা দাবি মেনে না নেন, তবে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে ধাবিত হবেন।
এবিষয়ে বিএটিবির ভেন্ডার, মেসার্স মতিউর রহমান (এম,এস,এম) ঠিকাদারি কোম্পানির মালিক মোঃ মনোয়ার হোসেন কাবলু জানান, চাহিদার প্রেক্ষিতে কর্মী নিয়োগ দিয়ে বিএটিবিতে সাপ্লাই দেওয়া হয়েছে। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী পর্যায় ক্রমে এসকল কর্মীদের সকল চাহিদা পুরণ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ফিল্ড টেকনিশিয়ানরা সরাসরি বিএটিবি কোম্পানির আওতায় যেতে আন্দোলন শুরু করেছে। এতে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ কাজে কর্মী সংকট পড়ায় আমার উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কোম্পানি যদি তাদের দাবি যৌক্তিক মনে করে ব্যাবস্থা নেন, তবে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু কোম্পানি থেকে যদি এভাবে চাপ আসতে থাকে, তবে আমি আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।
কোম্পানির প্লান্টের কাজে নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ এসকল কর্মচারীদের চলমান কর্মবিরতির ফলে কোম্পানির কাজের স্বার্থে কতটা প্রভাব পড়ছে এবং এই সংকট নিরসনে কি ভুমিকা নেওয়া হতে পারে, তা জানতে ঝিনাইদহ লিফ রিজিওনের রিজিওনাল ম্যানেজার মিজানুল কবিরের নিকট ফোন দিলে, তিনি বাইরে একটা মিটিংয়ে আছেন পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও পরে তার সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply