
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড় ‘ক বলুহর স্যান্ড হাসপাতাল রোডটি এখন সাধারণ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম। সামান্য বৃষ্টি হলেই মরহুম আলা উদ্দিন মোটরসাইকেল গ্যারেজের সামনের সড়কটি পরিণত হয় ছোটখাটো এক ডোবায়। পানি জমে ঢেকে যায় সড়কের বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। দীর্ঘদিনের এই চরম বেহাল দশায় সড়কটি পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য এক প্রত্যক্ষ মরণফাঁদে পরিণত হলেও কর্তৃপক্ষের কোণঠাসাঁ মনোভাব ও উদাসীনতায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এটি কোটচাঁদপুর পৌরসভার অত্যন্ত ব্যস্ততম একটি পথ।
প্রতিদিন হাসপাতালগামী রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তাটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কার বা পানিনিষ্কাশনের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব ও বেহাল ড্রেনেজ পদ্ধতির কারণে রাস্তায় থৈ থৈ পানি জমে থাকে।
পানির নিচে খানাখন্দ না দেখতে পেয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন এই সড়কের প্রতিদিনের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার সকাল ৯ টা ২০ মিনিটের দিকে ৪ থেকে ৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইজিবাইক গন্তব্যে যাওয়ার পথে জমা পানির নিচে থাকা গর্তে পড়ে যায়। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ইজিবাইকটি রাস্তার ওপর উল্টে পড়ে। এ সময় ইজিবাইকে থাকা যাত্রীদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। ভাগ্যক্রমে যাত্রীরা বড় ধরনের প্রাণহানি বা মারাত্মক অঙ্গহানির হাত থেকে রক্ষা পেলেও পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছেন যাত্রীরা, যা যেকোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারত।
এলাকাবাসীর আকুল দাবি,কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি কিং ‘বা মর্মান্তিক দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে অনতিবিলম্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ‘মরণফাঁদ’ সড়কটির টেকসই সংস্কার এবং পানিনিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান কল্পে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাসরি হস্তক্ষেপ ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
Leave a Reply