1. adnanmim872@gmail.com : doinikinsafercokh :
  2. Munabbiha145@gmail.com : Munabbia A : Munabbia A
  3. fauzursabit135@gmail.com : Fauzur Sabit : Fauzur Sabit
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন

প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তায় স্বস্তিতে

‎মো: হাফিজুর রহমান বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৯ Time View

সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে টানা তিন মাস মাছ ও অন্যান্য
‎জলজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। প্রতিবছরের মতো এবারও জুন থেকে আগস্ট
‎পর্যন্ত সুন্দরবনের নদী-খাল ও বনসংলগ্ন জলাশয়ে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। তবে
‎নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া বননির্ভর নিবন্ধিত জেলেদের জন্য এবারই
‎প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। এতে স্বস্তি ফিরেছে
‎সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজারো জেলে পরিবারের মাঝে।
‎প্রতি বছর প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনের নদী-খাল ও বনসংলগ্ন জলাশয়ে মাছ, কাঁকড়াসহ
‎বিভিন্ন জলজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ থাকে। এ সময় বননির্ভর হাজারো জেলে কর্মহীন হয়ে
‎পড়েন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মৎস্যসম্পদের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকারের
‎এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও জেলেদের জীবিকায় তৈরি হয় সংকট। সেই বাস্তবতা
‎বিবেচনায় নিয়ে এবার প্রথমবারের মতো নিবন্ধিত বননির্ভর জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা
‎চালু করা হয়েছে।

‎সরকারের এ কর্মসূচির আওতায় সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে চাল
‎বিতরণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সহায়তা জেলে পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত
‎করার পাশাপাশি জীবিকার তাগিদে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনে প্রবেশের প্রবণতা
‎কমাতে সহায়ক হবে।
‎খাদ্য সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগী জেলেরা। তারা জানান,
‎নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরতে না পারায় এতদিন পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন
‎কাটাতে হতো। সরকারের এ সহযোগিতা তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে
‎শুধুখাদ্য সহায়তা নয়, ভবিষ্যতে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থারও দাবি জানান তারা।
‎বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “এর আগে
‎কখনো সুন্দরবননির্ভর জেলেদের জন্য এ ধরনের খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমান
‎সরকার প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সুন্দরবনসংলগ্ন সাতক্ষীরা, খুলনা,
‎বাগেরহাট ও মোংলা এলাকার মোট ৮ হাজার ২৭১ জন নিবন্ধিত জেলের জন্য ৬ হাজার
‎৬৬২ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রামপাল এলাকায় জেলের সংখ্যা তুলনামূলক কম
‎হওয়ায় সেখানে বরাদ্দও কিছুটা কম রাখা হয়েছে।”
‎তিনি আরও বলেন, “সরকার একদিকে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ
‎করছে, অন্যদিকে বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কাজ
‎করছে। ভবিষ্যতেও জেলেদের কল্যাণে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
‎মোংলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়ন) মো. জাহিদুল ইসলাম
‎বলেন, “সুন্দরবননির্ভর নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বছরে চার দফায়
‎৮৪ কেজি, ৭০ কেজি, ৫৬ কেজি ও ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রজনন
‎মৌসুমে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। খাদ্য
‎সহায়তা কর্মসূচির ফলে জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে আরও উৎসাহিত হবেন।”
‎তিনি আরও বলেন, “বন বিভাগ, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে সুন্দরবনের নদী-খাল
‎ও বনসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া
‎আহরণ রোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।”
‎নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে বন বিভাগ, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন
‎নদী-খাল ও বনসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও টহল পরিচালিত হচ্ছে। অবৈধভাবে
‎মাছ ও কাঁকড়া আহরণ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট
‎কর্তৃপক্ষ।

‎সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা এবং একই সঙ্গে বননির্ভর
‎জেলেদের খাদ্য সহায়তা প্রদান এই দুই উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনের
‎মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বননির্ভর মানুষের টেকসই জীবন-জীবিকা
‎নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণভূমিকা রাখবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Themes By BDITWork.Com