
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণা এবং পরবর্তীতে ঘরে তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন মোছাঃ ফেরদৌসী খাতুন (২২) নামের এক গৃহবধূ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি এখন কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার বাজার পাড়ায়।
অভিযুক্ত যুবকের নাম সোহানুর রহমান, সে তালসার পূর্ব পাড়ার বাবুল ডাক্তারের ছেলে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোহান আত্মগোপনে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তালসার বাজার পাড়ার মোঃ বশির উদ্দিনের মেয়ে ফেরদৌসী খাতুনের সাথে গত এক বছর আগে মহেশপুর উপজেলার গোয়ালতলী কুমিল্লা পাড়ার মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ শিমুল হোসেনের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের আগে থেকেই ফেরদৌসীর সাথে সোহানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ফেরদৌসীর বিয়ের পরও সোহান তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে।
সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট সোহান তার ওয়াদা থেকে সরে এসে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে রাত ১১টার দিকে ফেরদৌসী সোহানের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন। ওই সময় সোহান বাড়িতে না থাকায় ফেরদৌসী তার পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানান। কিন্তু সোহানের পরিবার তাকে আশ্রয় দেওয়া তো দূরের কথা, জোরজবরদস্তি করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। কোনো উপায় না দেখে চরম হাতাশায় ফেরদৌসী তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বিষ বের করে সোহানের ঘরের ভেতরেই তা পান করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সোহানের পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এটিই প্রথম নয়; এর আগেও সোহানের প্রতারণার শিকার হয়ে ১৫ দিন আগে বিষপান করেছিলেন ফেরদৌসী। সে সময় সোহান নিজে উদ্যোগী হয়ে ইউসুফ হোসেন নামের এক যুবক এবং তার বোনের জামাইকে সাথে নিয়ে প্রথমে কোটচাঁদপুর ও পরে যশোর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা (ওয়াশ) করিয়ে নিয়ে আসে। বারবার এমন মানবিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে জীবনের শেষ চেষ্টা হিসেবে বিষপানের মতো চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হন এই নারী।
হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে ফেরদৌসী খাতুন বলেন, “সোহান আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বারবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত করেছে। সে আমার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। সোহানই আমার স্বামী, আমি ওর অধিকার চাই।”
এদিকে শুক্রবার(২১ আগস্ট)সোহানের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সাথে কথা বললে তারা বিষপানের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে অভিযুক্ত সোহান পলাতক থাকায় এবং একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সে ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
একজন অসহায় নারী যখন প্রলোভন ও প্রতারণার শিকার হয়ে হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন, তখন অভিযুক্ত বখাটে ও তার পরিবার পার পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার এবং কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) আশু হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্ত সোহান ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
Leave a Reply