1. adnanmim872@gmail.com : doinikinsafercokh :
  2. Munabbiha145@gmail.com : Munabbia A : Munabbia A
  3. fauzursabit135@gmail.com : Fauzur Sabit : Fauzur Sabit
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন করলেন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নেশার টাকার জন্য নিজের বাড়িতেই আগুন দিলো ছেলে কুতুবপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে দড়ি লাপাংয়ের মানুষ সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ছয় দিনেও অজানা কারণ, শোকে প্রাণ গেল ফুফুর শিবপুরে গভীর রাত পর্যন্ত ইউএনও’র পূজা মন্ডপ পরিদর্শন  টেকনাফে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৪ লাখ টাকায় বাবা পুত্র সন্তানকে বিক্রি করে দিল সাংবাদিকের প্রেমে পড়লে লাভ বই ক্ষতি নেই! জেনে নিন ইতিবাচক দিকগুলো ৩০ লাখ টাকার প্রলোভন, রাশিয়ার যুদ্ধে প্রাণ গেল কুমিল্লার সাগরের

গভীর রাতে জুয়ার আসর থেকে পাঁচ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

মো.আরফান আলী প্রতিনিধি 
  • Update Time : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৪ Time View

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে জুয়া খেলার অভিযোগে ঠাকুূরগাঁওয়ে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে ঠাকূরগাঁও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়া এলাকায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান কালে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার হাতের একটি আঙুল ভেঙে যাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঠাকূরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত এএসআই শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), কনস্টেবল আলমগীর কবির (৩৩) এবং ঠাকুরগাঁও শহর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।

পুলিশ সূত্র ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে ওই পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তাসের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলার অভিযোগে পুলিশ সদস্যদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া করা হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হন। তাঁর হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায় । তাকে শারীরিক ভাবে অসুস্থতার কারণে ছুটি দেয়া হয়েছে। অভিযানস্থল থেকে তাস, নগদ ৫০ টাকা ও কয়েকটি স্মার্টফোন, মটরবাইক উদ্ধারের তথ্য জানা যায়। অভিযানের সময় পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮) পালিয়ে যান বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে কনস্টেবল শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । অপর সদস্য আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলার কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন। তিনি আরও জানান, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
দেশে নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
এদিকে ঘটনার পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর সরকারী আইনি নথিতে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। নতুন আইনটি Public Gambling Act, 1867 রহিত করে প্রণীত এবং প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে। আইনের ৪৯ ধারায় পুরোনো আইনের অধীনে ইতোমধ্যে নেওয়া কার্যক্রম, আদেশ এবং বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে সংরক্ষণমূলক বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন আইনের ২ ধারায় অর্থ বা মূল্যমানের বিনিময়ে কার্ড গেমসহ বিভিন্ন খেলা পরিচালনা বা অংশগ্রহণকে ‘জুয়া’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ৪ ধারায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
আইনের ১৫ ধারায় জুয়ার অপরাধের জন্য অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড, অথবা অনুর্ধ্ব দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের জন্য বিধান রাখা হয়েছে। জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, ব্যবহার বা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭ ধারায় অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ১৮ ধারায় এর জন্য অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনুর্ধ্ব পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা চার লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের জন্য বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, সরবরাহ বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৮ ধারায় অপরাধ নির্ধারণ এবং ১৯ ধারায় অনধিক তিন বছর কারাদণ্ড বা অনুর্ধ্ব দশ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের অনধি বিধান রাখা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, মামলা, তদন্ত ও আদালতের বিষয়।
সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নে উঠে আসে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ৩০ ধারায় নির্দিষ্ট কর্মকর্তার অভিযোগ ছাড়া আদালত এ আইনের অধীন মামলা বিচারার্থে গ্রহণ করতে পারবে না এবং ৩১ ধারায় সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন—এমন পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। আইনের ৩৪ ধারায় এ আইনের অধীন অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বর্তমান ঘটনায় কোন ধারায় মামলা হয়েছে এবং ১৪ সেপ্টেম্বরের সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে কোন আইনের বিধান প্রয়োগ করা হবে—তা মামলার এজাহার, তদন্ত এবং আদালতের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে। কারণ ঘটনাটি নতুন আইন প্রকাশের আগের তারিখের হলেও ১৫ সেপ্টেম্বর নতুন আইন কার্যকর হয়েছে এবং এর ৪৯ ধারায় পূর্ববর্তী আইনের অধীন গৃহীত কার্যক্রম ও বিচারাধীন কার্যধারার বিষয়ে পৃথক বিধান রয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই আইন প্রয়োগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে দোষী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই; তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের পাশাপাশি প্রযোজ্য বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। মামলার তদন্তে জুয়ার আসরে কার কী ভূমিকা ছিল, জুয়ার অর্থের পরিমাণ, ঘটনাস্থলের ব্যবহার এবং অভিযুক্তদের প্রত্যেকের সংশ্লিষ্টতা—এসব বিষয়ও যাচাই করার কথা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের মধ্য দিয়েই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায় নির্ধারণ সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Themes By BDITWork.Com