
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে গণসংহতি আন্দোলনের (জিএসএ) জাতীয় পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলফাত হোসেনকে হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা ও পুনরায় হামলা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৩ আগস্ট) থানায় দেওয়া অভিযোগে আলফাত হোসেন উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ এবং পারিবারিক সম্পত্তি/ঘের সংক্রান্ত বিরোধের কারণে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছে। এসব বিরোধের জেরে এর আগেও তার ওপর হামলা ও হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ আগস্ট শনিবার মাগরিবের নামাজের পর স্থানীয় বাসিন্দা মুনসুর সরদারের জানাজা শেষে তিনি কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় স্থানীয় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রশীদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত একদল লোক সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন আলফাত।
তার দাবি, হামলার সময় কয়েকজনের হাতে দা, রামদা, শাবল, ছুরি ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা তাকে নাম ধরে হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করলে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগপত্রে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত বা প্রাণঘাতী কোনো ঘটনা ঘটার আগেই পুলিশি তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন আলফাত হোসেন।
আলফাত হোসেন অভিযোগে আরও বলেন, বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। যেকোনো সময় তার বা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা কিংবা গুরুতর কোনো ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানায় দেওয়া অভিযোগে ঘটনার তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা এবং তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সত্যতা ও হামলার সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
Leave a Reply