
ঝিনাইদহ উপজেলা পরিষদ পুকুর পাড় এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা, তদারকি ও সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি এই পুকুরে ‘আরাবি’ নামের এক কিশোরের পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বসানো প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার অকার্যকারিতা স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
মূল সমস্যা ও উদঘাটিত প্রশ্নাবলী
নজরদারির অভাব ও সামাজিক অবক্ষয়: জনপরিসর হিসেবে উন্মুক্ত এই পুকুর পাড়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অনাকাঙ্ক্ষিত আড্ডা, প্রকাশ্য ধূমপান এবং ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটছে। সিসি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় এসব অপকর্ম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরাবির মৃত্যু ও ফুটেজের অস্পষ্টতা: পানিতে ডুবে মারা যাওয়া কিশোর আরাবির শেষ মুহূর্তের চলাচল সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে কি না—তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সময় বিচারে এই তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জরুরি।
ক্যামেরা বিকল থাকার অভিযোগ: স্থানীয় তথ্যমতে, সেখানে স্থাপিত তিনটি সিসি ক্যামেরাই বর্তমানে অচল বা নষ্ট। সরকারি সম্পদ স্থাপন করার পর তা রক্ষণাবেক্ষণ না করা এবং প্রয়োজনে সেবা না পাওয়া চরম অবহেলার পরিচয়।
প্রশাসনের নিকট জরুরি দাবি
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্পষ্ট ব্যাখ্যা: ক্যামেরাগুলো সচল নাকি অচল—এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে দ্রুত সঠিক তথ্য উপস্থাপন ও স্পষ্ট বক্তব্য আসা উচিত।
ফুটেজ জনসম্মুখে আনায়ন বা তদন্তে ব্যবহার: যদি সিসি ক্যামেরাগুলো সচল থাকে, তবে তদন্তের স্বার্থে কিংবা পরিবারের সংশয় দূর করতে আরাবির চলাচলের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ বা পর্যালোচনা করা হোক।
নিয়মিত মনিটরিং ও টহল বৃদ্ধি: অচল ক্যামেরাগুলো অবিলম্বে মেরামত করে কেন্দ্রীয় নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে এবং পুকুর পাড়ে তরুণ-তরুণীদের অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা ও ইভটিজিং বন্ধে পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে।
অপরাধ প্রতিরোধ ও দুর্ঘটনার তথ্য উদঘাটনে সরকার প্রযুক্তির যে সুবিধা দিয়েছে, তা সঠিক তদারকির অভাবে ভেস্তে গেলে তা স্রেফ অবহেলা ছাড়া আর কিছুই নয়। আরাবির মৃত্যুর সঠিক রহস্য উন্মোচন ও পুকুর পাড়ের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।
Leave a Reply