
দুর্নীতি প্রতিরোধ, সেবাখাতে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে নাগরিকদের আরও সক্রিয় ও সংগঠিত হওয়ার বিকল্প নেই। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ও অন্যান্য জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সেবার মানোন্নয়নে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নাটোরে অনুষ্ঠিত সনাক-ইয়েস-এসিজি’র অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় বক্তাগণ এসব কথা বলেছেন। ২০ জুলাই ২০২৬ সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), নাটোর আয়োজিত এ সভায় সনাক, ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) এবং অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি)’র শতাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তাগণ বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হলে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেবাখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে নাগরিকদের গঠনমূলক অংশগ্রহণ বাড়লে সেবার মান উন্নত হবে এবং দুর্নীতির সুযোগ কমে আসবে।
সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি সনাক, ইয়েস ও এসিজি সদস্যদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান। টিআইবি’র কোঅর্ডিনেটর-সিভিক এনগেজমেন্ট মো: আতিকুর রহমান দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এবং সেবাখাতে শুদ্ধাচার চর্চার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত সামাজিক নজরদারি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম কার্যকর উপায়। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সেবাখাতের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীগণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ও অন্যান্য সেবাখাতে কাজ করতে গিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ফলে সেবার মানোন্নয়ন, অনিয়ম হ্রাস ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির ইতিবাচক দিক এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভার শেষে উপস্থিত সকল সদস্য দুর্নীতি প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং দুর্নীতিবিরোধী শপথ পাঠ করেন।
Leave a Reply