
ঝিনাইদহের আনোয়ার জাহিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর গণিত শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অস্বাভাবিকভাবে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার সপ্তম শ্রেণীর গনিত ক্লাস চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে ক্লাস না করেই ফিরে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীতে গণিত ক্লাস নেন রফিকুল ইসলাম। ক্লাস চলাকালে বিভিন্ন সময়ে ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেন।
কিছু অভিভাবকদের অভিযোগ, সামান্য ভুল বা পড়া না পারার কারণে নারী শিক্ষার্থীদেরও বেত্রাঘাত করা হয়। এতে কোন কোন সময় নারী শিক্ষার্থীদের সংবেদনশীল স্থানেও আঘাত প্রাপ্ত হয়। যে কারণে নারী শিক্ষার্থীরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। লেখা পড়ার থেকে তারা গল্প আর আড্ডায় মনোযোগী হচ্ছে বেশি! যে কারণে শাসন করতে যেয়ে রাগের বসে পড়ে কিছু শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করা হয়েছে। এতে যদি আমার ভুল হয় তবে ক্ষমা চাচ্ছি! পরবর্তীতে এমনটি আর করা হবে না।
স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকা সুদিপ্তা চন্দনা বলেন, ঘটনার দিন আমি স্কুলের কাজে বাইরে ছিলাম। এবিষয়ে অভিভাবকের কোন অভিযোগ থাকলে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষানুরাগীদের মতে, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শারীরিক শাস্তির পরিবর্তে ইতিবাচক ও মানবিক পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply