
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে সস্তা হাইস্কুল মাঠে হুদো নওয়ানীপাড়া ও শিবানন্দপুর গ্রামের মধ্যে ফুটবল খেলা চলছিল। খেলাকে কেন্দ্র করে নাটিমা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী জাকির হোসেনের ওপর হুদো গ্রামের কিছু যুবক আক্রমণ চালায়। এ সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিক শামীম ওসমান মারামারির ওই দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও করতে শুরু করেন। বিষয়টি স্থানীয় হুদো গ্রামের আনোয়ার ও তার সঙ্গীরা দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আনোয়ারের নেতৃত্বে আব্দুল্লাহ, বিল্লাল ও সাব্বিরসহ ১০-১২ জনের একটি দল অতর্কিতভাবে সাংবাদিক শামীম ওসমানের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তিনি নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিলে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে “তোর সাংবাদিকতা ছোটানো হচ্ছে” বলে গালিগালাজ শুরু করে। পরে তাদের হাতে থাকা হকি স্টিক, লোহার পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শামীম ওসমানের ওপর সামনে ও পেছন থেকে উপুর্যুপরি হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনি রাস্তার ওপর লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সাংবাদিক শামীম ওসমানের মাথায় সাতটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তার দুই পা ও হাতে লাঠির আঘাতে গুরুতর জখম করা হয়েছে।
এদিকে সাংবাদিকের ওপর এই নৃশংস হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মহেশপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক বাবর আলী বাবুসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি মহেশপুর থানাকে অবহিত করা হয় এবং এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ব্যাপারে মহেশপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
Leave a Reply