
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সারপাড় গ্রামে মাছ লুটের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে মানসিকভাবে অসুস্থ এক যুবক ও তার মায়ের ওপর হামলা, স্বর্ণের চেইন ছিনতাই এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মতলব দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেন আহত যুবকের মা জেসমিন বেগম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি দিঘিতে অংশীদারদের উদ্যোগে মাছ চাষ করা হচ্ছিল। ঘটনার দিন দিঘি থেকে মাছ ধরে আড়তে নেওয়ার সময় অভিযুক্তরা জোরপূর্বক মাছ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জেসমিন বেগমের ছেলে সিয়াম বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় এনে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় এবং গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছেলের চিৎকার শুনে মা জেসমিন বেগম এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এতে তার মুখে গুরুতর আঘাত লাগে, নিচের চোয়ালের একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত হন। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় তার গলায় থাকা প্রায় ৪ আনি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আহত মা-ছেলেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেও বাধা দেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের প্রতিবেদনে জেসমিন বেগমের দাঁত ভেঙে যাওয়াকে ‘Grievous Hurt’ (গুরুতর জখম) এবং সিয়ামের শরীরের বিভিন্ন স্থানের আঘাতকে ‘Simple Hurt’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, তদন্তের সময় মামলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, মতলব দক্ষিণ থানার এসআই (নিরস্ত্র) আব্দুল আউয়াল বিপিন (নং-৭৭৯৬০৫৬০৮৬) তদন্ত শেষে কেবল মারধর, শ্লীলতাহানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেন। কিন্তু হত্যা চেষ্টা, ছিনতাই, অবৈধভাবে আটকে রাখা, পথরোধ এবং একাধিক অভিযুক্তের সম্পৃক্ততার অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩৫৪ ও ৫০৬(২) ধারার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললেও ১৪৩, ৩৪১, ৩০৭ ও ৩৭৯ ধারার অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগেরও সত্যতা মেলেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে জেসমিন বেগম দাবি করেন, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উপেক্ষা করা হয়েছে এবং প্রভাবশালীদের প্রভাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, অভিযুক্তরা এখনও তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ ও পুনঃতদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলা, ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply