1. adnanmim872@gmail.com : doinikinsafercokh :
  2. Munabbiha145@gmail.com : Munabbia A : Munabbia A
  3. fauzursabit135@gmail.com : Fauzur Sabit : Fauzur Sabit
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
জলঢাকায় প্রাণ রক্ষা করতে গিয়ে ট্রাক খাদে  সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে ৯০ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ টেকনাফে চুরির মামলায় রোহিঙ্গা আসামি গ্রেপ্তার পুকুরে ডুবে জমজ দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন করলেন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নেশার টাকার জন্য নিজের বাড়িতেই আগুন দিলো ছেলে কুতুবপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে দড়ি লাপাংয়ের মানুষ সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ছয় দিনেও অজানা কারণ, শোকে প্রাণ গেল ফুফুর শিবপুরে গভীর রাত পর্যন্ত ইউএনও’র পূজা মন্ডপ পরিদর্শন 

সংসার চালাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন রেহেনা বেগম

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৬ Time View

দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে সব হারিয়ে এখন রেললাইনের পাশে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন এক অসহায় নারী। দুই সন্তানকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত মাথার চুল বিক্রি করে ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের। জানা গেছে, রেহানা খাতুন নামের ওই নারী আগে একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় তিনি ও তার দুই সন্তান এখন আশ্রয় নিয়েছেন খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায়।

বর্তমানে রেলব্রিজের পাশের সরকারি জমিতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন রেহানা। তবে চরম অভাব-অনটনের কারণে সেই ঘর এখনো পূর্ণতা পায়নি। কয়েক মাস ধরে শুধু বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও মাথা গোঁজার মতো কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা হয়নি। প্রখর রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি ও তার দুই সন্তান।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম জানান, মাথা গোঁজার কোনো জায়গা না থাকায় রেহানা পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন দেখি তার মাথায় চুল নেই। জিজ্ঞেস করলে কাঁদতে কাঁদতে বলে—ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে চুল বিক্রি করে দিয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, রেহানার মতো অসহায় নারীর জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় প্রবীণ আবু তালেব শেখ বলেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাবো, যেন দ্রুত তাকে একটি ঘর দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে একটি বাঁশের ফ্রেম দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে রেহানার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা সম্ভব। স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, বাঁশের কাঠামো তৈরি আছে। এখন শুধু টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই একটি ঘর দাঁড় করানো যাবে। এজন্য এলাকার সচ্ছলদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন রেহানা। তার স্বপ্ন খুব বড় নয়—মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি, যেখানে বৃষ্টির দিনে সন্তানদের ভিজতে হবে না, আর রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে তারা।

রেহানা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। ঘর নাই, খাওয়ার কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই।

একজন মায়ের এই চরম ত্যাগ দারিদ্র্যের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। এখন প্রশ্ন—আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে একটি অসহায় মা ও তার সন্তানরা পাবে মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয়!

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Themes By BDITWork.Com