
আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার রূপ-রস বদলালেও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ঐতিহাসিক সামন্তা বাজারে আজও টিকে রয়েছে শত বছরের লোকজ সংস্কৃতি। শহরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঝলমলে সেলুন আর কৃত্রিম চাকচিক্যের ভিড়ে এই বাজারে খোলা আকাশের নিচে, গাছের ছায়ায় বসে চুল-দাড়ি কাটার চিরচেনা দৃশ্য যেন অতীত ও বর্তমানের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
শিকড়ের টানে ঐতিহ্য ধরে রাখার লড়াই
সামন্তা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সুবিশাল গাছের ছায়ায় মাটির ওপর কাঠের পিঁড়ি পেতে বসেছেন প্রবীণ নরসুন্দর (নাপিত) ভাইয়েরা। পাশে সাজানো পুরোনো আমলের কাঠের বাক্স, ক্ষুর, চামড়ায় শান দেওয়ার প্রথা আর ঝাপসা আয়না। আধুনিক রূপচর্চার যুগেও স্থানীয় মানুষ ও প্রবীণরা পরম ভরসায় ছুটে আসেন এই উন্মুক্ত স্থানগুলোতে। কাঁচির চেনা ‘কট-কট’ শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো চত্বর।
কেবল সেবা নয়, সামাজিক মেলবন্ধন
স্থানীয়দের মতে, সামন্তা বাজারের এই চত্বরটি কেবল চুল-দাড়ি কাটার কেন্দ্র নয়, বরং এটি গ্রামবাংলার এক অনন্য সামাজিক মিলনমেলা। এখানে কাঁচির শব্দের মাঝেই চলে হাটের টুকিটাকি খবর, রাজনীতি, আবহাওয়া কিংবা কৃষিকাজের হালচাল নিয়ে খোশগল্প। প্রবীণদের সাথে নবীনদের কুশল বিনিময়ের এটি এক চিরায়ত আড্ডাঘর।
সংকট ও টিকে থাকার ব্যাকুলতা
বর্তমান তরুণ প্রজন্ম দিন দিন আধুনিক সেলুনমুখী হলেও স্বল্প খরচ, খোলামেলা পরিবেশ এবং আবহমান আবেগের কারণে এই প্রথাটি এখনো টিকিয়ে রেখেছেন প্রবীণ কারিগররা। তবে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এই পেশায় যুক্ত পরিবারগুলো দিন দিন আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে।
যান্ত্রিক সভ্যতার দাপটে বহু প্রাচীন প্রথা হারিয়ে গেলেও সামন্তা বাজারের এই মেঠো রূপটি মহেশপুরের লোকজ সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল হয়ে বেঁচে রয়েছে।
Leave a Reply