
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অবৈধভাবে সার মজুদ ও বরাদ্দবহির্ভূত সার সংরক্ষণের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক অভিযানে ২ হাজার ৩৪০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জব্দকৃত সার শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনব্যাপী সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া আদায়কৃত অর্থদণ্ড সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের কবিরাজহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিসিআইসি লাইসেন্সধারী সার ডিলার নওশাদ ট্রেডার্স ও জনতা হাসকিং মিলের অবৈধ গুদাম থেকে ১ হাজার ৪৯৩ বস্তা টিএসপি, ১৮১ বস্তা ডিএপি ও ২১৬ বস্তা এমওপি সারসহ মোট ১ হাজার ৮৯০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে জনতা অটো রাইস মিলের ম্যানেজার কাজী মো. ফয়সালকে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে একই এলাকায় বিএডিসি নিবন্ধিত কৃষি বীজঘরের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপংকর বর্মন। এ সময় গোডাউন থেকে ৪৫০ বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গোডাউনের ম্যানেজার মো. জনি ইসলামকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুন বলেন, ‘কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার কোনোভাবেই অবৈধভাবে মজুদ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নেই। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়েছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, জব্দকৃত সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নন-ইউরিয়া সারের ক্ষেত্রে সাময়িক কিছুটা সংকট থাকলেও আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে বরাদ্দকৃত সার পাওয়া যাবে। তাই কৃষকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে।
অভিযানে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম, বীরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম এবং জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি)-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply