
ক্যানসারে আক্রান্ত প্রতিষ্ঠাতা, দ্রুত এমপিওভুক্তির আকুতি।নিজের জীবনের সব সঞ্চয়, পরিশ্রম এবং আত্মত্যাগ উজার করে দিয়ে দরিদ্র মেয়েদের আলোর পথ দেখাচ্ছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার কলাবাড়ী ইউনিয়নের বুরুয়া গ্রামের মেয়ে রেখা রানী ওঝা। সরকারি নার্সিং জীবনের অবসরোত্তর পেনশনের পুরো টাকা ঢেলে দিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি বালিকা বিদ্যালয়। তবে বর্তমানে ক্যানসারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগে বিদ্যালয়টি পরিচালনায় চরম সংকটে পড়েছেন এই মহীয়সী নারী।
সংগ্রামময় জীবন ও শিক্ষার আলো ছড়ানোর উদ্যোগ:
১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া রেখা রানী ওঝা ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত জেদি ও অদম্য মেধার অধিকারী ছিলেন। বাবার বিয়ের চাপ উপেক্ষা করে, বাড়ি পালিয়ে ও আত্মীয়দের সহায়তায় পড়ালেখা চালিয়ে যান। ঢাকার নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে ডিগ্রি নিয়ে ১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১১ সালে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল থেকে অবসরে যান।
অবসরে যাওয়ার পর নিজের উপার্জিত পেনশনের টাকায় জমি কিনে কোটালীপাড়ায় প্রতিষ্ঠা করেন বালিকাব্যালয়টি। শুরুতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী খুঁজে বের করতে হয়েছে তাকে। দূরের ছাত্রীদের যাতায়াতের কষ্টের কথা চিন্তা করে নিজ খরচে একটি হোস্টেলও নির্মাণ করে দেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা পড়াশোনা করছে। নামমাত্র বা বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ পাওয়ায় অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
অর্থসংকট ও বর্তমান সংকট:
লাইব্রেরির এক কোণেই সাদামাটা জীবনযাপন করা রেখা রানী ওঝা বর্তমানে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসাসেবার বিপুল খরচ এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আর একা বিদ্যালয়ের ব্যয়ভার বহন করতে পারছেন না। নিয়মিত বেতন দিতে না পারায় শিক্ষকরাও বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। যদিও শিক্ষকরা বিনা বেতনে পড়ানোর শর্তে যুক্ত হয়েছিলেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় পুরো শিক্ষা কার্যক্রম এখন হুমকির মুখে।
সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ ও দাবি:
রেখা রানী ওঝার এই মহতী উদ্যোগ ও অদম্য ইচ্ছা যেন ভেস্তে না যায়, সেজন্য স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ అధికారు আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। বিদ্যালয়টিকে দ্রুততম সময়ে এমপিওভুক্ত (MPO) করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা এবং নারীশিক্ষার এই বাতিঘরটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।
Leave a Reply