
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে সারের চোরাই বাণিজ্য ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সাব-ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে সারের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে, যার প্রত্যক্ষ বলি হচ্ছেন এলাকার সাধারণ কৃষকরা।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কাজিরবেড় ইউনিয়নের কোলা গ্রামের সারের সাব-ডিলার কামাল হোসেন সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ১০ বস্তা সার চোরাইভাবে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের মমিনতলা গ্রামের অন্য এক সাব-ডিলারের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
ঘটনার বিস্তারিত ও কৃষকদের ভোগান্তি:
বেআইনি স্থানান্তর: নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত সার সেই এলাকার নিবন্ধিত কৃষকদের নিকট নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু অসাধু ডিলাররা নিজেদের এলাকায় কৃত্রিম সংকট বানিয়ে অন্য এলাকায় চড়া দামে সার পাচার করছে।
অতিরিক্ত মূল্য আদায়: সাধারণ কৃষকরা সার কিনতে গেলে “সার নেই” বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অথচ গোপনে অতিরিক্ত টাকা দিলে ঠিকই মিলছে সার।
কৃষকদের অসন্তোষ: চলতি মৌসুমে সারের এমন সংকট ও কালোবাজারির কারণে ফসলের আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি:
ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করে জানান, ডিলার ও সাব-ডিলারদের এই অবৈধ কারসাজির কারণে তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকদের দাবি—তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত সাব-ডিলার কামাল হোসেনসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে সারের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।
Leave a Reply