
আইনগত স্বীকৃতি পাওয়ার পর বেলজিয়ামের রাজপরিবারে যুক্ত হয়েছেন ২৬ বছর বয়সি গাড়ি বিক্রেতা ক্লিমেন্ট ভ্যান্ডেনকেরখোভ। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বেলজিয়ামের রাজার ভাই প্রিন্স লরেন্টের সন্তান হিসেবে তার পিতৃপরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে রাজপুত্রের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
প্রিন্স লরেন্ট এবং বেলজিয়ান গায়িকা ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ানটেনের সন্তান ক্লিমেন্টকে কয়েকমাস আগে একটি গোপনীয় অনুষ্ঠানে প্রিন্সের পরিবারে গ্রহণ করা হয়। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপুত্র উপাধি পেলেও তিনি কোনো ধরনের রাজকীয় ভাতা বা আর্থিক সুবিধা পাবেন না।
রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পেতে দীর্ঘ লড়াই ও সময় পেরিয়ে আসতে হয়েছে ক্লিমেন্টকে। নিজের পদবি পরিবর্তন করে রাজকীয় পদবি ‘স্যাক্সে-কোবার্গ’ ব্যবহার করবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এ বিষয়ে ক্লিমেন্ট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘ভ্যান্ডেনকেরখোভ পদবি নিয়েই আমি গর্বিত। এই নাম বাদ দেওয়া মানে আমার মায়ের ত্যাগের প্রতি অবিচার করা।’
নিয়ম অনুযায়ী, প্রিন্স লরেন্টের অন্য সন্তানদের মতো তিনি রাজকীয় উত্তরাধিকার তালিকায় থাকছেন না এবং রাজপরিবারের কোনো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমেও অংশ নেবেন না।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে একটি টেলিভিশনের প্রামাণ্যচিত্রে ক্লিমেন্ট তার বাবার সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরেন। ২০০৩ সালে প্রিন্সেস ক্লেয়ারকে বিয়ে করার আগে প্রিন্স লরেন্ট গায়িকা ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ানটেনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। ২০১৩ সালে একটি শপিংমলে প্রথম প্রিন্সের মুখোমুখি হন ক্লিমেন্ট, তবে তখন তিনি জানতেন না যে তিনি রাজপরিবারের কেউ। পরবর্তীতে ১৬ বছর বয়সে মায়ের কাছে নিজের আসল পরিচয় জানতে পারেন।
এর চার বছর পর প্রিন্স লরেন্টকে ফোন করার সাহস করেন ক্লিমেন্ট। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের পর ডিএনএ টেস্টের সিদ্ধান্ত হয়। হাসপাতালে একসঙ্গে গিয়ে টেস্ট সম্পন্ন করার পর ল্যাবরেটরি থেকে জানানো হয় যে তাদের ডিএনএ ৯৯.৫ শতাংশ মিলে গেছে।
উল্লেখ্য, বেলজিয়ামের রাজপরিবারে পিতৃপরিচয় নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে সাবেক রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্টও ডিএনএ টেস্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০২০ সালে তিনি এক কন্যা সন্তানের পিতৃত্বের কথা স্বীকার করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শিল্পী ডেলফিন বোয়েল রাজকন্যা উপাধি লাভ করেন এবং বর্তমানে তিনি ‘ডেলফিন দে স্যাক্সে-কোবার্গ’ নামে পরিচিত।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী বর্তমানে কেবল নির্দিষ্ট কয়েকজন সদস্যই রাজকীয় ভাতা পাওয়ার অধিকারী, যার মধ্যে রাজা ফিলিপ, সাবেক রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্ট, প্রিন্স লরেন্ট এবং প্রিন্সেস আস্ট্রিড অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
Leave a Reply