
সুন্দরবনের গহীন নদী ও খালে মাছ ধরার মৌসুমে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সক্রিয় বনদস্যু চক্র। দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সশস্ত্র তাণ্ডবে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে উপকূলীয় জেলেপল্লীগুলোতে। সুন্দরবনের একটি খাল এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ, রান্নার রসদ ও ট্রলারসহ ৫ জেলেকে অপহরণ করেছে দস্যু দলটি।
হামলা ও অপহরণের বিবরণ
স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বন বিভাগের বৈধ পারমিট (পাস) নিয়ে একদল জেলে সুন্দরবনের অভয়ারণ্য সংলগ্ন খালে কাঁকড়া ও মাছ ধরছিলেন। এসময় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র দস্যু দল তাদের ওপর হামলা চালায়। ডাকাতরা জেলেদের জিম্মি করে ট্রলারে থাকা আহরিত মাছ, কাঁকড়া, জ্বালানি তেল, রান্নার রসদ ও সৌর প্যানেল লুট করে নেয়। পরবর্তীতে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে একটি ট্রলারসহ ৫ জন জেলেকে তুলে নিয়ে গহীন বনের দিকে পালিয়ে যায়।
মুক্তিপণের দাবি ও জেলেদের উদ্বেগ
ঘটনার পর অপহৃত জেলেদের মহাজন ও পরিবারের কাছে দস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে অপহৃতদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার পর বাগেরহাট, মোংলা ও মুন্সীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় জেলেপল্লীগুলোর সাধারণ মৎস্যজীবীদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জীবনের ঝুঁকিতে অনেকেই বনের ভেতরে যেতে ভয় পাচ্ছেন।
উদ্ধার অভিযান
খবর পাওয়ার পরপরই অপহৃত জেলেদের উদ্ধার এবং দস্যুদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের যৌথ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বনের সম্ভাব্য সবকটি খাল ও প্রবেশপথে টহল জোরদার করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলেদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং দস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
Leave a Reply