1. adnanmim872@gmail.com : doinikinsafercokh :
  2. Munabbiha145@gmail.com : Munabbia A : Munabbia A
  3. fauzursabit135@gmail.com : Fauzur Sabit : Fauzur Sabit
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৮ অপরাহ্ন

মাদ্রাসার একাধিক ছাত্রীর সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক, জনতার হাতে ধরা অতঃপর

মাগুরা জেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৬ Time View

মাগুরা শহরের পিটিআই পাড়া এলাকায় একটি বাড়ির তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পরিচালিত একটি সাইনবোর্ডবিহীন মহিলা মাদ্রাসাকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে মাদ্রাসায় আসা একাধিক তরুণীর সঙ্গে বাড়ির মালিকের ছোট ছেলে সাঈদ আহমদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, বিয়ের আশ্বাস এবং শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ এক নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে তাকে স্থানীয়রা আটক করেছিলেন ।

সাঈদ আহমদ মাগুরা সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার ধর্মীয় শিক্ষক ও হাসপাতাল জামে মসজিদের পেশ ইমাম এবং দেশমুখপাড়া মাদ্রাসার পরিচালক মো. সাইফুল্লাহ হুজুরের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পিটিআই পাড়া এলাকার একটি বাড়ির তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় মহিলা মাদ্রাসাটির কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বাইরে থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় বা কার্যক্রম সম্পর্কে বোঝা যায় না। মাদ্রাসাটির দৃশ্যমান কোনো সাইনবোর্ডও নেই বলে তারা জানান।

স্থানীয়রা জানান, সাইফুল্লাহ হুজুরের বাড়ির তিন তলা ও চারতলা নিয়ে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা। হুজুর তার পরিবার নিয়ে দ্বিতীয় তলায় থাকেন । নিজেদের বাড়ি হিসেবে হুজুরের ছেলে সাঈদ আহমদের মাদ্রাসার ভেতরে অবাধে চলাফেরার সুযোগ ছিল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন ছাত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে পরে বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হতো। এরপর তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। এমনকি বিভিন্ন সময় একাধিক মেয়েকে তার ব্যক্তিগত কক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো বলেও স্থানীয় কয়েকজন জানান।

এ অভিযোগের ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুলাই ২০২৬ মাগুরা সদর উপজেলার সেনেরচর গ্রামের মোঃ আব্দুল্লাহর নাবালিকা মেয়ে নুরজাহানের সঙ্গে সাঈদ আহমদের শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত অবস্থায় ঐ মাদ্রাসার অন্য মেয়েরা ধরে ফেলেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ধর্ষণ মামলা হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়ভাবে ছেলে ও মেয়ে পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় ।
পরবর্তীতে দুই পরিবারের সম্মতিতে ওই নাবালিকার সঙ্গে সাঈদ আহমদের বিয়ে দেওয়া হয় । ওই বিয়েতে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
মেয়ে ও ছেলের বিয়ের বয়স না হওয়ায় নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একটি এফিডেভিট করা হয়েছে যাহার সিরিয়াল নম্বর ২৫৯৫/২৬ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মাগুরা ডিসি কোর্ট মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আমিরুল ইসলাম ছেলে ও মেয়ের বিবাহ পড়ান পরবর্তীতে আমিরুল হুজুরের মাধ্যমে লটারি পাবলিক করা হয়।

নাবালিকার মেয়ের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সাঈদ আহমদের বাবা মাওলানা মো. সাইফুল্লাহ হুজুর বিভিন্ন প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়েটি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন।

পরিবারটির আরও অভিযোগ, সাইফুল্লাহ হুজুর সম্প্রতি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তার ছেলেকে দিয়ে মেয়ের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের উদ্যোগ নেন।

কয়েক জন রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতারা নাবালিকার বাবা আব্দুল্লাহকে ডেকে নিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ করাতে বাধ্য করেন। এবং বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

জানা গেছে ,ছেলের বাবা সাইফুল্লাহ হুজুরের কাছ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদে ঘটানোর জন্য সাত লক্ষ টাকা নিলেও মেয়ের বাবাকে কাবিনের তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে ফাকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেওয়া হয়।বিবাহ বিচ্ছেদের ১৫ দিনের হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মেয়ের বাবা একটি টাকাও পান নাই বলে জানা গেছে।

দরিদ্র পরিবারের মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান , নাবালিকা পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। এ অবস্থায় বিয়ের পর তাকে বিচ্ছেদের মুখে ঠেলে দেওয়া হলে তার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে নাবালিকার নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সাঈদ আহমদের বাবা মাওলানা মো. সাইফুল্লাহ একজন আলেম হিসেবে এলাকায় পরিচিত এমন দাবি করে স্থানীয়রা বলেন, তার পরিবারের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে নাবালিকা মেয়েকে ঘিরে এমন অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“সাইফুল্লাহ হুজুরকে আমরা একজন ধার্মিক মানুষ হিসেবেই জানি। তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ অত্যন্ত কষ্টদায়ক। যেহেতু মেয়েটির বিবাহ হয়েছে এখানে মেয়েটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি মানবিকভাবে দেখা উচিত।” কিন্তু বিচ্ছেদের মত ঘটনা মেয়েকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে দিলে তার পুরো জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাঈদ আহমদ ও তার বাবা মাওলানা মো. সাইফুল্লাহর হুজুরের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Themes By BDITWork.Com